২০২৮ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না-ট্রাম্প

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২২ বার
ট্রাম্পের আশ্বাস: ইসরাইলি হামলা গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঝুঁকিতে ফেলবে না

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার কিছু সমর্থক সম্প্রতি রিপাবলিকান এই নেতাকে ভবিষ্যতে আবারও হোয়াইট হাউসে রাখার জন্য বিভিন্ন উপায় প্রস্তাব করেছিলেন, যার মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর বিষয়টিও ছিল আলোচনায়। তবে রবিবার (২৬ অক্টোবর) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিজেই এ সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দেন।

ট্রাম্প বলেন, “আমাকে হয়তো এটা (ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়া) করার জন্য বলা হতে পারে। এটা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় ধারণা মনে হতে পারে। কিন্তু আমি এটা করবো না। আমার মনে হয়, এটি খুব ভালো একটি বিষয় হতে পারত, কিন্তু আমি মনে করি মানুষ এটিকে ভালোভাবে নেবে না। আসলে এটা সঠিকও হবে না।”

তার এই মন্তব্যে কার্যত শেষ হলো সেই জল্পনা, যেখানে বলা হচ্ছিল, মার্কিন সংবিধানের সীমাবদ্ধতা এড়াতে ট্রাম্প হয়তো কোনো কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারেন। কারণ মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কেউই তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন না।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে আছেন। সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তবে তার সমর্থক ও কিছু রিপাবলিকান বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধানের এই সীমাবদ্ধতা “প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়া”র ওপর প্রযোজ্য, কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ওপর নয়। ফলে তাত্ত্বিকভাবে, যদি তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কোনো কারণে পদত্যাগ করেন, তাহলে ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে পারেন।

তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবী মহলে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। অনেক সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞের মতে, সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে ক্ষমতায় রাখার সীমা নির্ধারণ করা। তাই এই কৌশল প্রয়োগ করা হলে সেটি সংবিধানের মর্মবিরুদ্ধ হবে এবং তা আদালতে টিকবে না।

এই বিতর্ক প্রসঙ্গে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক রিপাবলিকান কৌশলবিদ বলেন, “এটা এক ধরনের রাজনৈতিক গিমিক। ট্রাম্পের সমর্থকরা যতই বলুক না কেন, বাস্তবে এটা সাংবিধানিকভাবে কার্যকর নয়। মার্কিন জনগণও এমন কোনো রাজনৈতিক নাটকীয়তা মেনে নেবে না।”

তবে ট্রাম্পের নিজের মন্তব্যেও বিষয়টি নিয়ে কিছুটা রহস্য থেকে গেছে। এক সাংবাদিক যখন তাকে প্রশ্ন করেন যে, তিনি কি তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না, তখন ট্রাম্প সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, “আমি কি এটা উড়িয়ে দিচ্ছি না? আপনাকেই বলতে হবে, আমি এটা উড়িয়ে দিচ্ছি কিনা।” তার এই উত্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ট্রাম্প ইচ্ছে করেই বিষয়টিকে অস্পষ্ট রাখছেন, যাতে তার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অব্যাহত থাকে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতো নেতারা ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। “তারা দুর্দান্ত মানুষ, যারা চাইলে রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে পারবেন। আমি মনে করি, যদি তারা কখনও একসঙ্গে দল গঠন করে, তাহলে সেটা হবে এক অপ্রতিরোধ্য জুটি,” বলেন ট্রাম্প।

তার এই মন্তব্যের পর অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন, ট্রাম্প হয়তো ২০২৮ সালের নির্বাচনে সরাসরি না দাঁড়ালেও তার রাজনৈতিক প্রভাব এবং উত্তরাধিকার টিকিয়ে রাখতে চান। তার পছন্দের প্রার্থী বা সহযোগীরা নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি পরোক্ষভাবে রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট শিবির ট্রাম্পের মন্তব্যকে নতুন এক “রাজনৈতিক নাটক” বলে অভিহিত করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর এলিজাবেথ ওয়্যারেন এক বিবৃতিতে বলেন, “ট্রাম্প জানেন, তিনি আইনত তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। কিন্তু তিনি এখনও সংবিধানের ফাঁকফোকর খুঁজে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন। এটি আমেরিকার গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক ইঙ্গিত।”

ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দলের কিছু নেতা মনে করেন, ট্রাম্পের এই স্পষ্ট অবস্থান তার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে, কারণ তিনি সংবিধানের প্রতি সম্মান দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে কিছু জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান বলছেন, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন বক্তব্য দিচ্ছেন যাতে রাজনৈতিকভাবে নিজের প্রভাব অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন।

মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্প এখনো এক কেন্দ্রীয় চরিত্র। ২০১৬ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি দেশের রাজনীতিতে এমন এক প্রভাব ফেলেছেন, যা বহু দশকেও দেখা যায়নি। তার সমর্থকদের চোখে তিনি “ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের কণ্ঠস্বর”, আবার বিরোধীদের মতে তিনি “গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি”।

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৮ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও, তার ছায়া সেই নির্বাচনে দীর্ঘ হবে। তিনি যাদের সমর্থন করবেন, তারা রিপাবলিকান মনোনয়ন পেতে বড় সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কো রুবিওর মতো নেতাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় ট্রাম্পের প্রভাব সুস্পষ্ট থাকবে।

সবশেষে ট্রাম্প বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও মহান করতে চাই, কিন্তু সব সময় ক্ষমতায় থাকার মাধ্যমে নয়। আমি চাই, আমার চিন্তা, আমার আদর্শ, আমার সমর্থকরা এগিয়ে যাক।” তার এই বক্তব্যকে অনেকেই মার্কিন রাজনীতিতে একটি ‘কৌশলগত পিছু হটা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যেখানে ট্রাম্প সরাসরি প্রার্থী না হয়েও রাজনীতির চালকের আসনে থাকতে চান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত