প্রিজন ভ্যানে দাঁড়িয়ে ইনু-‘ধাক্কান কেন! ধাক্কাচ্ছি না’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৯ বার
প্রিজন ভ্যানে দাঁড়িয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, হাসানুল হক ইনুর আচরণ সরগরম
সংগৃহিত

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজিরকালে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু প্রিজন ভ্যানে দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছেন। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনা ধীরে ধীরে তীব্র ও সরগরম পর্যায়ে পৌঁছে।

এই দিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য হাসানুল হক ইনুর উপস্থিতি প্রয়োজন ছিল। তাকে সকাল ৯টা ১৮ মিনিটের দিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। দুদক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এজন্য বিচারক আগামী ২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।

দুপুর ১২টার দিকে কারাগারের উদ্দেশ্যে তাঁকে হাজতখানা থেকে বের করা হলে পুলিশ তাকে দ্রুত প্রিজন ভ্যানে ওঠাতে চাইলে তিনি বাধা দেন এবং দাঁড়িয়ে যান। তিনি পুলিশের কাছে বলেন, ‘ধাক্কান কেন?’ পুলিশ সদস্যের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘ধাক্কাচ্ছি না’। তারপর ধীরে ধীরে তাঁকে প্রিজন ভ্যানের দিকে নেওয়া হয়।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

এই সময় তার দুহাত পিছমোড়া বাঁধা ছিল। প্রিজন ভ্যানের সামনের অংশে পৌঁছে তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন। পুলিশ সদস্য তাঁকে বসতে বললে ইনু বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ কী বলেছেন, দাঁড়িয়ে যেতে পারব না?’ পুলিশ সদস্য জবাবে বলেন, ‘হা, দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন না।’ এরপর ইনু পুনরায় বলেন, ‘আপনি অর্ডার দেখান। খামাখা সিনক্রিয়েট করছেন কেন?’ পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমাদের অর্ডার আছে।’ তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, পরে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে লোহার রড ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় গাড়ি চলন্ত অবস্থায় ছিল।

এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলার দিক থেকে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনো অনেকের নজর কাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রিজন ভ্যানে এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকির উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সরগরম বিষয় হয়ে ওঠেছে।

মামলার প্রেক্ষাপটও ঘটনার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে। এই মামলা দায়ের করেছিলেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী মুন্সা জেবিন ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে।

সোমবারের ঘটনার পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব এবং আদালতের কার্যক্রমকে কখনো কখনো ব্যাহত করতে পারে। অন্যদিকে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হলেও এর ঝুঁকি ও নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর হাসানুল হক ইনুকে নিরাপদভাবে প্রিজন ভ্যানে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর এই আচরণ সামাজিক ও রাজনৈতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত