দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬২ বার
নভেম্বরের ১৬ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৫ শতাংশের বেশি

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এই সূচক দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, রফতানি-আমদানি, মুদ্রার স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিষেবার সক্ষমতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩২১৭৮ মিলিয়ন বা প্রায় ৩২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩২১৭৮ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের নিট রিজার্ভ এখন ২৭৩৭৬ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।”

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

এটি পূর্বের রেকর্ডের তুলনায় একটি উল্লসিত দিক নির্দেশ করছে। গত ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২১০৭ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার। সেই অনুযায়ী আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী নিট রিজার্ভ ছিল ২৭৩৫০ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ছোটখাটো বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী কুশন হিসেবে কাজ করে। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধের চাপ থাকে। বাংলাদেশের মতো একটি বিকাশশীল অর্থনীতির জন্য রিজার্ভ বৃদ্ধির সংবাদ দেশের ভোগান্তি কমাতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক।

বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভের বৃদ্ধিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ অবদান রাখে। রফতানি আয়, বিশেষ করে পোশাক খাতের আয়, আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ঋণ, বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য ঘাটতির নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি রপ্তানি খাতের স্থিতিশীলতা এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সহায়ক হয়েছে।

নিট রিজার্ভের হিসাব আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী করা হয়। এতে মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় (short-term liabilities) বাদ দিলে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। অর্থাৎ দেশের হাতে থাকা প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ যা আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্য ও ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যবহারযোগ্য, তা নির্ণয় করা হয়। এই পরিমাপ অর্থনীতির শক্তি ও স্থিতিশীলতার একটি নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বৃদ্ধি দেশের মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সহায়ক হবে। রিজার্ভের উচ্চ স্তর বাংলাদেশী মুদ্রার বিপরীতে আন্তর্জাতিক মুদ্রার মান ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং দামের অস্থিরতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বজায় রাখতেও সহায়ক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দেশের বৈদেশিক রিজার্ভের বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। এটি সরাসরি দেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। রিজার্ভ বৃদ্ধি মানে শুধু বিদেশি মুদ্রার উপস্থিতি নয়, বরং এটি দেশের আর্থিক ও নীতি নির্ধারণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বৈদেশিক রিজার্ভের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের রফতানি খাত ও বৈদেশিক বিনিয়োগের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে পোশাক ও তৈরি পোশাক শিল্প দেশের বৈদেশিক রিজার্ভের মূল চালিকা শক্তি। রপ্তানি আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের নীতি এবং বাণিজ্য ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্যোগগুলো রিজার্ভ বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

এছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বৃদ্ধি দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় শক্তিশালী কুশন হিসেবে কাজ করবে। বিদেশি ঋণ পরিশোধ, পেট্রোলিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আমদানিতে সহায়তা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষভাবে বর্তমান বৈশ্বিক মুদ্রা অস্থিরতার সময় এই রিজার্ভ দেশের জন্য একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ আর্থিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, “দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই ধারা বজায় রাখতে হলে রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করা, বৈদেশিক বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করা এবং বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, দেশের বৈদেশিক রিজার্ভের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক। এটি দেশের অর্থনীতিতে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করছে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা প্রদান করছে। বিশেষভাবে এমন সময়ে যখন বিশ্ব অর্থনীতি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, বাংলাদেশে রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা প্রমাণ করছে।

অর্থনীতিবিদরা আরও উল্লেখ করছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে রপ্তানি খাতকে নতুন নতুন বাজারে সম্প্রসারণ, বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং দেশীয় শিল্প ও উৎপাদনশীলতাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এটি শুধু বর্তমান স্থিতিশীলতা নয়, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

সবমিলিয়ে বলা যায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বৃদ্ধি ৩২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানো দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এটি দেশের আর্থিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। রিজার্ভের এই বৃদ্ধি দেশের জন্য শুধু আর্থিক মানেই নয়, এটি সামাজিক ও আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত