প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ৩০ হাজার কর্পোরেট কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ২০২২ সালের পর প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় কর্মী ছাঁটাই এবং এর মাধ্যমে অ্যামাজনের মোট কর্পোরেট কর্মী সংখ্যা প্রায় ৩৫০,০০০-এর ১০ শতাংশ কমে যাবে। এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে অতিরিক্ত নিয়োগের ক্ষতিপূরণ, ব্যয় কমানোর প্রয়াস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির প্রভাব।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনলাইন ডেলিভারি এবং ডিজিটাল সেবার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অ্যামাজন ব্যাপক হারে কর্মী নিয়োগ করেছিল। তবে বর্তমানে সেই অতিরিক্ত নিয়োগের খরচ ও ক্ষতিপূরণ কমানোর জন্য এই ছাঁটাই অবলম্বন করা হচ্ছে। অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) অ্যান্ডি জ্যাসি জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু কাজের জন্য মানবশক্তির প্রয়োজন কমে যাচ্ছে, ফলে কর্মী সংখ্যা হ্রাস করতে হবে।
এই ছাঁটাইয়ের আওতায় বিভিন্ন বিভাগ পড়তে পারে। মানবসম্পদ (People Experience and Technology বা PXT), অপারেশনস, ডিভাইস ও সার্ভিসেস এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS) উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে AWS বিভাগের “স্পেশালিস্ট” গ্রুপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী প্রভাবিত হতে পারেন, যারা গ্রাহকদের পণ্য উন্নয়ন ও সেবা বিক্রয়ে সহায়তা করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। অ্যান্ডি জ্যাসি বলেন, “যত বেশি আমরা জেনারেটিভ AI ও এজেন্ট ব্যবহার করব, তত বেশি কিছু কাজের জন্য কম লোক প্রয়োজন হবে।” এটি কোম্পানির কর্মী ছাঁটাইয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
অ্যামাজনের এই সিদ্ধান্ত একা নয়; অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও একই পথে হাঁটছে। মাইক্রোসফট, মেটা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার ও ব্যয় কমানোর জন্য কর্মী ছাঁটাই করছে। উদাহরণস্বরূপ, মাইক্রোসফট জুলাই মাসে প্রায় ৯,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়, যা তাদের মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ৪%।
ছাঁটাইয়ের পরও অ্যামাজন সাময়িক কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি আগামী মৌসুমে ২,৫০,০০০ সাময়িক কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা তাদের ব্যবসায়িক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি শিল্পে কর্মী ছাঁটাই ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে কর্মীদের জন্য নতুন দক্ষতা অর্জন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি প্রযুক্তি খাতে কর্মীদের ভূমিকা এবং সংজ্ঞা পুনঃনির্ধারণের সম্ভাবনাও উন্মোচন করছে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের জন্য বর্তমান দক্ষতার সঙ্গে নতুন দক্ষতা অর্জনের চাপ বেড়ে গেছে।
অ্যামাজনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রযুক্তি খাতের কর্মসংস্থান এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন ধারা তৈরির ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র খরচ কমানো নয়, বরং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করাও এই ধরনের সিদ্ধান্তের মূল প্রেক্ষাপট। তবে, এই পরিবর্তন দ্রুতগতিতে ঘটায় বহু কর্মীর জন্য নতুন চাকরির সুযোগ এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজন অতি জরুরি হয়ে উঠেছে।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫ লাখ কর্মী নিয়োজিত অ্যামাজনের এই ছাঁটাই কেবল কর্পোরেট স্তরের জন্য প্রযোজ্য। যদিও মোট কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি, কর্পোরেট কর্মীর এই দশ শতাংশ ছাড়াই কোম্পানির কাজকর্মের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরণের কর্মী ছাঁটাই প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও নতুন নীতি ও কৌশল গ্রহণে প্ররোচিত করবে।
প্রসঙ্গত, অ্যামাজনের এই পদক্ষেপের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ওপর আরও নির্ভরতা বাড়বে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য শিল্পখাতেও মানবশক্তি হ্রাসের প্রবণতা তৈরি করতে পারে।