২০২৮ নির্বাচনে ট্রাম্প: ভাইস প্রেসিডেন্ট নয়, তৃতীয় মেয়াদের ইঙ্গিত কি কৌশল?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩০ বার
২০২৮ নির্বাচনে ট্রাম্প: ভাইস প্রেসিডেন্ট নয়, তৃতীয় মেয়াদের ইঙ্গিত কি কৌশল?

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও খবরের শিরোনামে এসেছে, এবার ২০২৮ সালের নির্বাচনে তার রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে। যদিও ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না, তবুও তৃতীয় মেয়াদের জন্য তার আগ্রহের প্রশ্ন এখনো রয়েছে। সোমবার মালয়েশিয়া থেকে টোকিও যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা অস্পষ্ট ও রহস্যময় মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পদে তৃতীয়বার দায়িত্ব নেওয়া পছন্দ করবেন, যদিও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী এটি সম্ভব নয়।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা ট্রাম্প ২০২১ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে তার এই দুই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে পারবেন না। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা রাজনৈতিকভাবে সম্ভাব্য পথ খুঁজছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ধারণা হলো ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। ধারণাটি হলো, ট্রাম্প নিজে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করবেন, আর প্রেসিডেন্ট পদে অন্য একজনকে দাঁড় করানো হবে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট যদি জয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পদত্যাগ করেন, তাহলে ট্রাম্পকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ আসতে পারে।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

যদিও ট্রাম্প এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এটা করব না। এটা খুব চতুর শোনায়, যা মানুষ পছন্দ করবে না। এটা ঠিকও হবে না।” এর মাধ্যমে তিনি এই রাজনৈতিক কৌশলের প্রতি ব্যক্তিগত অনীহা প্রকাশ করেছেন। তার এই মন্তব্য সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠরা তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রবেশের জন্য অন্য ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক পথ খুঁজতে পারে।

মার্কিন সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইতিমধ্যেই দুইবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য যোগ্য নয়। একই সঙ্গে, সংবিধান উল্লেখ করে যে প্রেসিডেন্ট পদে অযোগ্য ব্যক্তি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও নির্বাচন করতে পারবেন না। অর্থাৎ, সংবিধানের স্পষ্ট বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের কিছু সূক্ষ্ম ও জটিল আইনি খুঁটিনাটি খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প তার রাজনৈতিক আগ্রহের প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন সমাবেশ ও প্রকাশ্যে রসিকতা করেছেন। এক সমাবেশে তিনি সমর্থকদের কাছে “ট্রাম্প-২০২৮” লেখা টুপি দেখিয়ে জল্পনা উসকে দেন, যা মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও এটি সরাসরি তৃতীয় মেয়াদে লড়ার প্রতিশ্রুতি নয়, তবুও সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জনমতকে উস্কে দেয়।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, উক্তি ও সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া এমন ইঙ্গিত দেয় যে তিনি এখনও মার্কিন রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে থাকবেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব, মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষমতা এবং সমর্থকপ্রিয়তা তাকে ভবিষ্যতের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে দাঁড় করাতে পারে। তিনি যেখানে উপস্থিত হন, সেখানে রাজনৈতিক উত্তাপ এবং সমর্থকের ভীড় সৃষ্টির ক্ষমতা রাখেন, যা অন্য প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ট্রাম্পের এই অস্পষ্ট ইঙ্গিত এবং রাজনৈতিক কৌশল শুধুমাত্র মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্ব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ট্রাম্পের রাজনৈতিক মনোভাব এবং প্রকাশিত বক্তব্য আন্তর্জাতিক বাজার, কূটনীতি ও মিত্র রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।

অন্যদিকে, মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু সমালোচক বলছেন, ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদের সম্ভাবনার কথাই আলোচ্য হওয়া অদ্ভুত। কারণ সংবিধান স্পষ্টভাবে তার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তাই, আইনি ও সংবিধানগত বাধা সত্ত্বেও রাজনৈতিক চতুরতা ও কৌশলের দ্বারা কি তিনি এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবেন, তা ভবিষ্যতের অজানা রহস্য।

মঙ্গলবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সুযোগ আছে, তবে আমি সেটা করব না।” এই মন্তব্য স্পষ্টভাবে বোঝায় যে তিনি সরাসরি ওই কৌশল গ্রহণ করতে রাজি নন। তবে তার ঘনিষ্ঠরা রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও আইনি বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিকল্প পথ খুঁজতে পারে, যা মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ট্রাম্পের এই অবস্থান, স্পষ্ট না হওয়া বক্তব্য এবং সমর্থকদের উত্তেজনা মিলিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি, রাজনৈতিক সমর্থন এবং জনমতের দিক থেকে ভবিষ্যতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

শেষ পর্যন্ত, ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদে পদ গ্রহণ করা কি কেবল রাজনৈতিক কৌশল, নাকি বাস্তবায়নযোগ্য লক্ষ্য, তা আগামী বছরগুলোতে সংবিধান, আদালত ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরদারির বিষয় হবে। বর্তমানে তার বক্তব্য, ঘনিষ্ঠদের মন্তব্য এবং সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া একত্রে দেখালে স্পষ্ট যে, ট্রাম্প এখনও মার্কিন রাজনীতির কেন্দ্রে নিজেকে রেখেছেন এবং আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব অল্প নয়।

ট্রাম্পের সম্ভাব্য পদক্ষেপ, রাজনৈতিক কৌশল এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখতে আন্তর্জাতিক মিডিয়া, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং মার্কিন জনগণ সবসময় সতর্ক। এই অজানা রাজনৈতিক পরিস্থিতি ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে পর্যন্ত দেশের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মনোযোগে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত