ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে সবুজায়ন ও গণপরিসর গড়ে তোলার উদ্যোগে ডিএনসিসি-বিএসএলের সমঝোতা স্মারক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৫ বার
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে সবুজায়ন ও গণপরিসর গড়ে তোলার উদ্যোগে ডিএনসিসি-বিএসএলের সমঝোতা স্মারক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা নগরের অতিব্যস্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে থাকা অব্যবহৃত স্থানগুলোকে সবুজ, প্রাণবন্ত ও নাগরিকবান্ধব গণপরিসরে রূপান্তর করতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো নগরবাসীর জন্য নিরাপদ, নান্দনিক ও উপভোগ্য জনসাধারণের স্থান তৈরি করা।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে পরিচালক আলতাফ হোসেন সেখ এবং ডিএনসিসির পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের অব্যবহৃত স্থানগুলোতে ডিএনসিসি বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে রয়েছে সবুজায়ন ও ল্যান্ডস্কেপিং, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ, এবং জনগণের জন্য উন্মুক্ত বিনোদনমূলক স্থান তৈরি। প্রকল্পের মাধ্যমে নগরের অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় খালি স্থানগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে, যা নাগরিকদের ছায়া, বিশ্রাম, হাঁটার পথ এবং সামাজিক মিলনমেলনের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ কেবল নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের স্থানগুলোতে সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নগরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ু ও শব্দ দূষণ কমানো এবং শহরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ অনুষ্ঠানে বলেন, “এই উদ্যোগ শুধু একটি অব্যবহৃত স্থান পুনরুজ্জীবিত করার কাজ নয়। এটি নগরপরিকল্পনা ও শহুরে জীবনযাত্রার উন্নয়নের দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। নাগরিকরা এখানে হাঁটাহাঁটি, সামাজিক মিলনমেলা এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে।”

প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “ডিএনসিসি শহরের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং দর্শনীয় স্থান তৈরি করতে চাই, যেখানে পরিবারের সদস্য, শিশুরা এবং যুবকরা সক্রিয়ভাবে সময় কাটাতে পারবে। এছাড়া এটি নগরের দৃশ্যমান সবুজ পরিমাণ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করবে।”

চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে যে, ডিএনসিসি সম্পূর্ণরূপে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের স্থানের সবুজায়ন ও বিনোদনমূলক অবকাঠামোর পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন করবে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পে পরামর্শ, তত্ত্বাবধান ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা প্রদান করবে। নগরের এই এলাকাগুলোতে ব্যস্ত রাস্তা ও ভিড়ের মাঝে মানুষের জন্য ছায়া, বিশ্রাম এবং শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যও রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এই মহাসড়কের নিচে থাকা খালি ও অপ্রয়োজনীয় স্থানগুলো এখন পর্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি। সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই স্থানগুলোকে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ, সুসজ্জিত এবং প্রাণবন্ত গণপরিসরে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবিদ ও নগরপরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে ঢাকার জন্য যুগান্তকারী হিসেবে বর্ণনা করছেন। তারা মনে করেন, শহরের প্রতিটি খালি স্থানকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে এবং নগরের বাসযোগ্যতা অনেকাংশে উন্নত হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে সবুজায়ন এবং পথচারীবান্ধব সুবিধা নির্মাণ করা হলে শহরের দূষণ হ্রাস, পরিবেশবান্ধব সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে পরিকল্পনা ও নকশা চূড়ান্ত করা হবে, এরপর নির্মাণ ও ল্যান্ডস্কেপিং কার্যক্রম শুরু হবে। স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত আলো, সিকিউরিটি ব্যবস্থা এবং শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য বিনোদনমূলক সুবিধা রাখা হবে। নাগরিকরা ছায়া, বাগান, হাঁটার পথ এবং বসার জায়গায় সময় কাটাতে পারবে।

এছাড়া, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে পরিকল্পনা তত্ত্বাবধানে নিশ্চিত করা হবে যাতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের স্থানে যানবাহনের গতি বা নিরাপত্তার কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। নগরের এই নতুন গণপরিসর শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং শহরের নাগরিক জীবনের মান উন্নয়নে একটি উদাহরণ স্থাপন করবে।

উদ্যোগটি কেবল স্থান পুনরুজ্জীবিত করতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ঢাকা শহরের দীর্ঘমেয়াদী নগরপরিকল্পনা ও পরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহরের খালি স্থানগুলোতে নতুন দৃষ্টিনন্দন ও নিরাপদ পারিপার্শ্বিক পরিবেশ আশা করছেন।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

ডিএনসিসি এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উভয়েই নিশ্চিত করেছেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে সবুজায়ন ও গণপরিসর উন্নয়নের প্রকল্পটি আধুনিক নগরপরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সম্প্রদায়, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিকদের মতামতও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এই উদ্যোগ রাজধানীর নগর জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ, সুসজ্জিত এবং সবুজ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি শহরের দৃশ্যমান পরিবেশ উন্নয়ন এবং নান্দনিকতার উন্নয়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত