চাপ বাড়ার মাঝে বাংলাদেশের যুবা ক্রিকেটারদের জয় উৎসব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮ বার
চাপ বাড়ার মাঝে বাংলাদেশের যুবা ক্রিকেটারদের জয় উৎসব

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা: বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর ও ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার চাপ শুধু শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেই প্রভাবিত করছে না, বরং এটি মানুষের মানসিক চাপ এবং কর্মক্ষমতার উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। মেটলাইফ বাংলাদেশের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ড স্টাডি ২০২৫’ শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে শুধু আর্থিক সুবিধা নয়, কর্মীদের মানসিক সুস্থতা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং যত্নবান সংস্কৃতি গড়ে তোলা আবশ্যক। এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সিইও নাসের এজাজ বিজয়, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, সিঙ্গার বাংলাদেশের এমডি এম এইচ এম ফাইরোজ এবং মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, “বর্তমান সময়ে চাকরির নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং প্রতিযোগিতার কারণে কর্মীরা মানসিকভাবে চাপগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের উৎপাদনশীলতা কমছে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তাই শুধু বেতন বা সুবিধা নয়, কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ এবং সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অপরিহার্য।”

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, “কর্মীদের দক্ষতা ও মূল্যবোধ—উভয়ই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানের আচরণগত মানদণ্ড স্পষ্ট করা। সততা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব শুধু মুখস্ত করা নয়, প্রকৃত অর্থে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য সংস্থা গুলোকে কর্মীদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশেও মনোযোগ দিতে হবে।”

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয় উল্লেখ করেন, “নিয়োগের সময় প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মী নারী হলেও মিড লেভেলে এসে তাঁদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সামাজিক কারণে—বিয়ে, সন্তান ও পরিবার—কিছু ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করি যাতে কেউ সুযোগ বা পরিবেশগত সীমাবদ্ধতার কারণে কর্মজীবন থেকে পিছিয়ে না পড়ে।”

মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, “আরও বেশি সুবিধা, যত্নবান সংস্কৃতি এবং খোলামেলা যোগাযোগ কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করে। এটি শুধু তাদের বিশ্বস্ততা বাড়াবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে।”

গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান জানান, জরিপে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ কর্মী তাদের দায়িত্ব বা কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট, কিন্তু মাত্র ৪২ শতাংশ তাদের প্রতিষ্ঠান অন্যদের কাছে সুপারিশ করবেন। তিনি বলেন, “যদি কর্মী নিজের কাজে সন্তুষ্ট থাকলেও প্রতিষ্ঠান নিয়ে বেশি সুপারিশ না করে, তবে এটি বোঝা যায় যে প্রতিষ্ঠানে আরও উন্নয়নের সুযোগ আছে।”

সিঙ্গার বাংলাদেশের এমডি এম এইচ এম ফাইরোজ বলেন, “জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের কর্মীরা মানসিক চাপ, নমনীয় কর্মপরিবেশ এবং আর্থিক চাপ নিয়ে বেশি চিন্তিত। তাই কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য, চাপ মোকাবেলার সক্ষমতা এবং সমর্থন ব্যবস্থা নিয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে।”

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না


অপরদিকে, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলও সম্প্রতি তাদের নৈপুণ্য এবং দৃঢ় মানসিকতার প্রমাণ দিয়েছে। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম যুব ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৫ রানে হারিয়েছে। আলোকস্বল্পতার কারণে ম্যাচের পরিধি কমে গিয়ে ৪৬ ওভারে সীমাবদ্ধ হলেও বাংলাদেশের যুবাদের দাপট কমেনি।

ব্যাটিংয়ে নেমে উজাইরুল্লাহ নিয়াজাই দুর্দান্ত খেলে ১৩৭ বলে ১৪০ রান সংগ্রহ করেন। আফগান ওপেনার খালিদ আহমাদজাই ৩৪ এবং ফয়সাল সাদাত ৩৩ রান যোগ করলেও বাংলাদেশের পেসার ইকবাল হোসেন ইমন ৫ উইকেট শিকার করেন। জবাবে বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ও ওপেনার জাওয়াদ আবরার দ্রুত আউট হলেও চতুর্থ উইকেট জুটিতে রিজান হোসেন ও কালাম সিদ্দিকী ১৩৯ রানের অবিস্মরণীয় পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনে। কালাম ১০১ রানে আউট হলেও রিজান ৭৫* রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন।

ডিএলএস মেথড অনুযায়ী বাংলাদেশ ৫ রানে আফগানিস্তানকে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের শুরুটা জয় দিয়ে রাঙিয়ে দিয়েছে। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন কালাম সিদ্দিকী অ্যালিন।


এই দুই খবরে একটি স্পষ্ট বার্তা ফুটে উঠেছে—বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম, হোক তারা কর্মক্ষেত্রে বা খেলাধুলায়, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মানসিকতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা দেখাচ্ছে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও প্রতিযোগিতার চাপ যেমন কর্মীদের মানসিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলছে, তেমনি খেলাধুলায়ও মানসিক দৃঢ়তা ও একাগ্রতার মাধ্যমে জয় সম্ভব হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান এবং ক্রীড়াক্ষেত্র দুই ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব, মনোবল ও সমন্বয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।

বাংলাদেশি যুবা ও প্রতিষ্ঠানের এই উদাহরণ প্রমাণ করছে, মানসিক সুস্থতা, সহায়ক সংস্কৃতি এবং দৃঢ় নেতৃত্বের বিকাশ শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্র নয়, খেলাধুলার মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশেও সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।


সংক্ষিপ্ত স্কোর (যুব ওয়ানডে)
আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯: ২৬৫/৯, ৫০ ওভার (উজাইরুল্লাহ ১৪০*, খালিদ ৩৪, ফয়সাল ৩৩; ইকবাল ৫/৫৭, রিজান ২/৫৪)
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯: ২৩১/৪, ৪৬ ওভার (কালাম ১০১, রিজান ৭৫*, রিফাত ২৬; ওয়াহিদউল্লাহ ২/৪৭)
ফল: ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশ ৫ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: কালাম সিদ্দিকী অ্যালিন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত