রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বড় হার, প্রোটিয়াদের দাপটময় সূচনা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৭ বার
রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বড় হার, প্রোটিয়াদের দাপটময় সূচনা

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাওয়ালপিন্ডির সবুজে মোড়া মাঠে মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা এক প্রত্যাশিত জয় দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রোটিয়াদের আগুনঝরা পারফরম্যান্সে সেদিনের স্বপ্ন ভেঙে গেল করুণভাবে। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে ধাক্কা খেয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক। শুরু থেকেই প্রোটিয়া ওপেনার রিজা হেনড্রিকসের ব্যাটে ঝড় ওঠে। তার মারমুখী ভঙ্গিতে পাকিস্তানি বোলাররা দ্রুতই চাপে পড়ে যায়। মাঠের গ্যালারিতে তখন নিস্তব্ধতা, কারণ একের পর এক বাউন্ডারি ও ছক্কায় গতি বাড়াচ্ছিলেন হেনড্রিকস। তিনি খেলেন ৪৫ বলে ৬০ রানের দারুণ ইনিংস, যেখানে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছয়।

তার সঙ্গে যোগ দেন টনি ডি জর্জি। তিনি ১৬ বলে ৩৩ রানের ঝোড়ো ইনিংসে দলকে আরও এগিয়ে নেন। শেষদিকে জর্জ লিন্ডে নামেন ব্যাট হাতে, আর তিনিও থেমে থাকেননি। ২২ বলে ৩৬ রানের মারকাট ইনিংস খেলেন তিনি। সবশেষে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা দাঁড় করায় ৯ উইকেটে ১৯৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর।

পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ নাওয়াজ তিনটি, আর সাইম আইয়ুব দুটি উইকেট নেন। তবে বাকি বোলারদের মধ্যে কেউই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। বিশেষ করে শেষ দিকে স্লগ ওভারে অতিরিক্ত রান দিয়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় পাকিস্তান।

১৯৫ রানের কঠিন টার্গেটে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা হয় ভয়াবহ। প্রথম দিকেই বাবর আজমের বিদায়ে ব্যাকফুটে চলে যায় দল। মাত্র ১২ রান করে বোল্ড হন তিনি। এরপর ব্যর্থ হন অধিনায়ক সালমান আলী আঘা, যিনি সাত বল খেলে মাত্র দুই রান যোগ করেন বোশের বলে। এই দুই উইকেটের ধাক্কায় পাকিস্তানি ইনিংসের ভিত কেঁপে ওঠে।

এক পর্যায়ে উসমান খান ও সাইম আইয়ুব কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। দুজনের মধ্যে সাইম আইয়ুবের ৩৭ রানের ইনিংস কিছুটা আশার আলো জ্বালিয়েছিল। তবে তার বিদায়ের পর আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। মোহাম্মদ নাওয়াজ করেন ৩৬ রান, কিন্তু প্রোটিয়াদের বোলিং আক্রমণের সামনে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। একে একে সাজঘরে ফিরতে থাকে পাকিস্তানের ব্যাটাররা, আর স্কোরবোর্ডে যোগ হতে থাকে হতাশার সংখ্যা।

প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে করবিন বোশ ছিলেন সবচেয়ে বিধ্বংসী। তার গতি ও নিয়ন্ত্রণে বিপাকে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটাররা। তিনি মাত্র ১৪ রান খরচায় নেন চারটি উইকেট। লিন্ডে পান তিনটি এবং উইলিয়ামসের দখলে যায় দুটি উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৮.১ ওভারে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।

পুরো ম্যাচজুড়েই দক্ষিণ আফ্রিকার দাপট ছিল স্পষ্ট। ব্যাট হাতে যেমন নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছে, তেমনি বল হাতে নিখুঁত পরিকল্পনা। তাদের ফিল্ডিং ছিল চমৎকার, যা বারবার থামিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের রান তোলার গতি। গ্যালারিতে পাকিস্তানি সমর্থকদের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে ম্যাচের শেষভাগে।

এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচ সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ শেষে প্রোটিয়া অধিনায়ক জানান, দলের সমন্বয়ই ছিল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। অন্যদিকে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আঘা স্বীকার করেন, ব্যাটিং ব্যর্থতাই তাদের পরাজয়ের মূল কারণ।

ম্যাচসেরার পুরস্কার পান দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার জর্জ লিন্ডে, যিনি ব্যাটে ৩৬ রান ও বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। তার পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একজন কার্যকর অলরাউন্ডার কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এই হার পাকিস্তানের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে তাদের ব্যাটিং বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে টপ অর্ডারে স্থিতিশীলতা না এলে সিরিজে ফিরে আসা কঠিন হবে। অন্যদিকে প্রোটিয়ারা এই জয়কে সামনে রেখে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।

রাওয়ালপিন্ডির আকাশে সন্ধ্যার আলো নিভে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান দলের মুখে দেখা যায় হতাশার ছায়া। মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের উল্লাস আর পাকিস্তানি দর্শকদের নীরবতা যেন ক্রিকেটের চিরাচরিত বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেয়—ফর্মই ক্রিকেটের একমাত্র ভাষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত