নোবেলজয়ী লেখক ওলে সোয়িংকার মার্কিন ভিসা বাতিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
নোবেলজয়ী লেখক ওলে সোয়িংকার মার্কিন ভিসা বাতিল

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নোবেল পুরস্কারজয়ী নাইজেরীয় নাট্যকার ও লেখক ওলে সোয়িংকার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ১৯৮৬ সালে প্রথম আফ্রিকান লেখক হিসেবে নোবেল পুরস্কার পাওয়া এই নাট্যকার আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলে একজন স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব। সম্প্রতি নাইজেরিয়ার লাগোসের কোঙ্গি এলাকার হারভেস্ট গ্যালারিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজে এই তথ্য প্রকাশ করেন সোয়িংকা।

সোয়িংকারা জানান, ২৩ অক্টোবর স্থানীয় মার্কিন কনস্যুলেট থেকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তাকে বলা হয়েছে, তার পাসপোর্ট নিয়ে কনস্যুলেটে উপস্থিত হতে হবে, যাতে তার ভিসা বাতিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। এই নোটিশের বিষয়টি তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘অদ্ভুত প্রেমপত্র’ আখ্যা দেন। নোটিশে উল্লেখ রয়েছে, “আমরা আপনাকে মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেল লাগোসে আপনার ভিসা নিয়ে আসার অনুরোধ করছি। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করতে, অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে ইমেল করুন।” সোয়িংকা নিজে এই নোটিশ ল্যাপটপ বন্ধ করে প্রকাশ্যে পাঠিয়েছেন এবং বলেন, “এই অনুরোধ রাখার সময় আমার নেই। কেউ কি স্বেচ্ছায় আমার হয়ে এটি নিতে চান?”

ওলে সোয়িংকার মতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় তিনি মার্কিন ভিসা পেয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোর পদক্ষেপ যুক্ত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের নীতির সঙ্গে কারও অবস্থান সাংঘর্ষিক মনে হলে তার ভিসা বা গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। সোয়িংকা বলেছেন, যদিও ভিসা বাতিলের ফলে তার মধ্যে কোনো হাহাকার বা অসন্তোষ নেই, তবে এটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “আমি কনস্যুলেট ও সেখানকার মার্কিন কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, ভিসা বাতিলে আমি সন্তুষ্ট এবং এতে আমি কোনো মানসিক ক্ষতি অনুভব করছি না। তবে সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যোগ দিতে গেলে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।”

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও মানবাধিকার মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা সোয়িংকার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁকে সমর্থন জানাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির ভিসা বাতিলের ঘটনা নয়, বরং সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে আলাদা রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

সোয়িংকার নিজের কর্মজীবনে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার মাধ্যমে সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি নিবেদিত থেকেছেন। তার রচনা ও নাট্যকর্ম আন্তর্জাতিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের পাঠক ও দর্শকের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এই পরিস্থিতি তার আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও প্রদর্শনী, সাহিত্য সম্মেলন এবং আন্তর্জাতিক সভায় উপস্থিতির সুযোগ সীমিত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক। একটি সাহিত্যিকের ভিসা বাতিল শুধু ব্যক্তিগত স্তরে নয়, বরং আন্তর্জাতিক সাহিত্য, সৃজনশীল আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নোবেলজয়ী লেখকের উপর এই প্রভাবকে গ্লোবাল সাহিত্য সম্প্রদায়ে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোয়িংকার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার সাহিত্যকর্ম চালিয়ে যাবেন এবং বিশ্বের অন্যান্য স্থানে সাহিত্য ও নাট্যকর্মের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবেন। তিনি বলেন, “যদি কোনো দেশের সীমাবদ্ধতা আমাকে আবদ্ধ করে, তবুও সৃজনশীলতা ও সাহিত্যিক আদর্শে আমি স্থির থাকব। সাহিত্যের ভাষা রাজনৈতিক সীমারেখার বাইরেও মানুষকে সংযুক্ত করতে পারে।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই ঘটনার ফলে মার্কিন ভিসা ব্যবস্থার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সোয়িংকার মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাহিত্যিকের ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপকে নীতি এবং মানবাধিকার পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

জকসু নির্বাচনে ৫ সদস্যের কমিশন গঠন

সোয়িংকারের ভিসা বাতিলের ঘটনা আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলে নিন্দার সুরও তুলেছে। বিভিন্ন লেখক সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা এবং সংস্কৃতিক ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা একযোগে দাবি করছেন যে, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে আলাদা রাখা উচিত। তারা মনে করছেন, সাহিত্যিকের স্বাধীনতা হরণের ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের লেখক ও শিল্পীও প্রভাবিত হতে পারেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববাসী এবং সাহিত্যকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে যে, আন্তর্জাতিক ভিসা নীতি এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান কীভাবে সমন্বিত হতে পারে, যাতে সৃজনশীলতা, স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের ক্ষতি না হয়। নাইজেরিয়ার লেখক ও নাট্যকার ওলে সোয়িংকার ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলে নীতিগত পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক হতে পারে।

সংক্ষেপে, নোবেলজয়ী ওলে সোয়িংকার মার্কিন ভিসা বাতিলের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক সাহিত্য, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং মানবাধিকার সচেতনতা ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, সাহিত্যিক ও সৃজনশীল মানুষের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিরক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত