ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছাত্রীর পোশাক নিয়ে -কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬০ বার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছাত্রীর পোশাক নিয়ে -কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সম্প্রতি এক বিতর্কিত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসির উদ্দিন মিঝি ছাত্র সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এই মন্তব্যের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার রাতেই ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এবং অনলাইনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

অডিও ক্লিপে অধ্যাপক নাসির উদ্দিন মিঝিকে বলতে শোনা যায়, “তুমি কালকে এই মেয়েকে মাইক দিছো কেন? এই মেয়ে কে? এই মেয়ের আল কুরআনে কি? মাইক দিছে কে ওর হাতে? ডিপার্টমেন্টকে ধ্বংস করছো, না? বেশি বাড়ছো, না?” এছাড়া তিনি আরও বলেন, “তোরে আমি ডাকছি আন্দোলনের সময়? তোকে কে এত বড় সাহস দিছে যে তুই বিভাগের ওপরে কথা বলিস? কী লাইন তোর? আমার বিভাগের যদি কোনো ছাত্রী হতো, আমার কোনো আপত্তি ছিল না। কোথাকার কোন একটা মৃত পোলা, যাই হোক সে তো চলেই গেছে। হাইয়ান, ইনসান না হাইয়ান নিয়ে গেছে ওখানে। আমি আল কুরআনের টিচার, ওখানে আমার সাথে গেছে জিন্সের প্যান্টের সাথে গেঞ্জি পড়া মেয়ে।”

এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতেই ব্যাপক ক্ষোভ এবং সমালোচনা দেখা দেয়। সাবেক সহ-সমন্বয়ক সাজাতুল্লাহ শেখ ফেসবুকে লেখেন, “স্যারের মুখে এরকম বক্তব্য শুনে আমি ব্যথিত। সব ছাত্রীই তো মেয়ের মতো হওয়ার কথা ছিল। সেখানে এ রকম উচ্চারণ অযোগ্য। আর বিভাগের শহীদ ছাত্রকে নিয়ে এ রকম তাচ্ছিল্য করা অনুচিত।” অন্য শিক্ষার্থী রাইসা বিনতে রাশিদা বলেন, “এমন উচ্চারণ একজন অধ্যাপকের মুখে শোভা পায় না। পুরো রেকর্ডটা প্রকাশ করা উচিত, উনি কেন এমন রেগে গেলেন, কী কারণে, তা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করাও জরুরি।”

অভিযোগ ও সমালোচনার জবাবে অধ্যাপক নাসির উদ্দিন মিঝি বলেন, “যে ছেলেটা মারা গেছে, সে ধার্মিক ও আলেম পরিবারের সন্তান। সেদিন ছেলেটার বাড়িতে একটি মেয়ে উপস্থিত হয়েছিল। এ কারণে ওই পরিবারের জন্য পরিস্থিতি বিব্রতকর হয়ে পড়ে। আমি তখন প্রচণ্ড রাগ ও উত্তেজিত অবস্থায় এ ধরনের মন্তব্য করে ফেলেছি। এই শব্দচয়নের জন্য আমি দুঃখিত।”

ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও জোরালো মনোযোগ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। তারা জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটতে না পারে তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অযাচিত মন্তব্যের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং সামাজিক সংগঠনগুলোও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা মন্তব্য করেছেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এবং শহীদ সাজিদের স্মরণে অংশগ্রহণকে কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা বা অপমান করা ঠিক নয়। বিশেষভাবে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং তাদের পোশাককে ভিত্তি করে করা মন্তব্যকে লজ্জাজনক এবং অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা এবং শিক্ষাগত স্বাধীনতার দাবিতে কণ্ঠ উঁচু করতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম এবং স্টুডেন্ট ফোরামে তারা অভিযোগ জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের মন্তব্য শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শিক্ষাগত পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালেও ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের মত শিক্ষাবিদদের মন্তব্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোবলকে প্রভাবিত করতে পারে। শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমান আচরণ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক দায়িত্ব এবং এই ধরণের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সংক্ষেপে, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পোশাক নিয়ে অধ্যাপক নাসির উদ্দিন মিঝির কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক ও শিক্ষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে নিন্দনীয়। শিক্ষার্থী, প্রশাসন এবং সমাজের চাপের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। এ ঘটনা শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষামূলক পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার প্রতি সমাজকে সতর্ক করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত