ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের সচিবালয় অভিমুখে মিছিল পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেডে আহত অন্তত কয়েকজন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪১ বার
ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের সচিবালয় অভিমুখে মিছিল পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেডে আহত অন্তত কয়েকজন

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, নিজস্ব সংবাদদাতা,একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা: সরকারের ঘোষিত পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের বাস্তবায়ন ও পাঁচ দফা দাবিতে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকেরা বুধবার দুপুরে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিছিল চলাকালীন সময়ে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করার পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, এতে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা আহত হয়েছেন। বিষয়টি পুরো রাজনৈতিক ও শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকে রওনা হন। তাদের মুখে ছিল সরকারের প্রতি তীব্র দাবি—ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও শিক্ষকের অধিকার নিশ্চিত করতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি শিক্ষকদের।

মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলো ইবতেদায়ী শিক্ষক সমিতি। তারা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করতে চাচ্ছিলেন। শিক্ষকদের প্রধান দাবি ছিল সরকারি ঘোষিত জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা, শিক্ষকের বেতন ও ভাতার কাঠামো পুনঃনির্ধারণ, অবসর সুবিধা নিশ্চিত করা, শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও সরকারি সমর্থন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা।

বেলা ২টা ১০ মিনিটের দিকে শিক্ষকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুলিশ তাদের মিছিল থামানোর চেষ্টা করে। তখন অপ্রত্যাশিতভাবে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে শিক্ষকেরা চিৎকার করতে থাকেন, কেউ কেউ দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় অন্তত কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কেউ চোখে, কেউ মাথায় আঘাত পেয়েছেন। কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর শিক্ষকরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপ শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তারা বলেন, “আমরা কোনরূপ সহিংসতা করিনি। আমাদের একমাত্র দাবি ছিল সরকারি ঘোষিত জাতীয়করণের বাস্তবায়ন। পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল থামিয়ে দিয়েছে এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে, যা একপ্রকার নির্যাতন।”

রাজধানীর সচিবালয় এলাকা তৎক্ষণাৎ উত্তেজনার মধ্যে চলে যায়। সাধারণ পথচারী, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিকরাও পরিস্থিতির চাপে পড়েন। পুলিশ ও শিক্ষকরা একে অপরকে দোষারোপ শুরু করেন। পুলিশ জানায়, নিরাপত্তা বজায় রাখতে তাদের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেছে, মিছিল অনুমোদিত ছিল না এবং এটি সরকারি অফিসগুলোতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

শিক্ষক নেতারা পুলিশি আচরণকে অযৌক্তিক এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অবমাননাকর হিসেবে দেখেছেন। তারা সতর্ক করেছেন, যদি সরকার শিক্ষকদের দাবি অবহেলা করে, তাহলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরও সমস্যার মুখোমুখি হবে। শিক্ষকদের মতে, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকেরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং তাদের কর্ম-অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তারা আরও বড় আন্দোলন শুরু করতে পারেন যদি তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত শিক্ষকদের অধিকার ও জাতীয়করণের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া তারা জানিয়েছেন, আহত শিক্ষকরা দ্রুত সেবা পাবেন এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

সচিবালয় এলাকা থেকে ছত্রভঙ্গ হওয়া শিক্ষকেরা জানান, তারা এবারও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পরিচালনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, “আমরা চাই সরকারের প্রতিশ্রুতিপূর্ণ ঘোষণাগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হোক। আমাদের দাবি অগ্রাহ্য করা হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

মিছিল ও পুলিশি দমন অভিযান আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে খবর হয়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ এবং পুলিশের প্রতিক্রিয়া নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষা আন্দোলন ও জনমত সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তারা বলছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষক-ছাত্রদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সমন্বিত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ অপরিহার্য।

এই ঘটনায় শিক্ষা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিক্ষকেরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি উপস্থাপন করতে পারেন এবং কোনো ধরনের নির্যাতন বা নিরাপত্তাহানি না ঘটে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে তারা আরও সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের কাছে তাদের দাবি পেশ করবেন। তারা আশা করছেন, সরকারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে জাতীয়করণ প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষকেরা উল্লেখ করেছেন, শিক্ষা মানোন্নয়ন ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়।

অপরদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, যাতে সরকারি সম্পত্তি ও সাধারণ মানুষ বিপদের মুখে না পড়ে, তাই মিছিল ছত্রভঙ্গ করার প্রয়োজন হয়েছিল। তবে এই ঘটনার ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

এভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও সচিবালয় এলাকা পুরো দুই ঘণ্টা উত্তেজনার মধ্যে ছিল। শিক্ষকেরা বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে চেয়েছেন, কিন্তু পুলিশের কঠোর পদক্ষেপে তাদের আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তারা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন, জাতীয়করণের প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়িত হোক এবং শিক্ষকেরা তাদের পূর্ণ অধিকার ভোগ করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত