কেন বারবার ইসরাইলি হামলার টার্গেটে পড়ছে জলপাই গাছ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৫ বার
কেন বারবার ইসরাইলি হামলার টার্গেটে পড়ছে জলপাই গাছ

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ফিলিস্তিনিদের জন্য জলপাই গাছ কেবল একটি কৃষিপণ্য নয়, এটি তাদের সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য ও পরিবারের জীবিকা এই গাছের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তবে দখলদার ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণের কারণে ফিলিস্তিনিদের জলপাই বাগানগুলো প্রতিনিয়ত বিপদের মুখে পড়ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ফিলিস্তিনের ৭৫৭টি বসতি স্থাপনকারীর হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, বহুজন আহত হয়েছেন।

মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের আয়ের প্রধান উৎস ধ্বংস করা এবং তাদের ভয় দেখিয়ে জমি ছাড়তে বাধ্য করা। ফিলিস্তিনের প্রায় এক লক্ষ পরিবার জলপাই চাষের ওপর নির্ভরশীল, এবং গাজায় উৎপন্ন জলপাই তেল দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তবে চলমান সংঘাত, অবরোধ এবং ইসরাইলি আক্রমণের কারণে অধিকাংশ জলপাই বাগানে সেচ ও সার দেওয়া বন্ধ হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই নাগাদ গাজায় ৮৬ শতাংশ কৃষিকূপ ধ্বংস হয়ে গেছে।

আগস্ট ২০২৫ সালে, পশ্চিম তীরের আল মুগাইয়রে তিন দিনের অবরোধ চলাকালীন ইসরাইলি সেনারা ১০,০০০ জলপাই গাছ ধ্বংস করে। এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে বহু গাছ এক শতাব্দীরও বেশি পুরানো ছিল। পাশাপাশি, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে গাজা থেকে জলপাই পণ্যের রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এসেছে, এবং সাম্প্রতিক দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে রপ্তানি প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে, কমপক্ষে ৩৮বার ইসরাইলি সেনারা আক্রমণকারীদের সহায়তা করেছে। একসময় গাজার নিজস্ব জলপাই শিল্পের জন্য পরিচিত অঞ্চলটি এখন প্রায় সমস্ত কৃষিজমি ধ্বংসপ্রাপ্ত, যেখানে ইতিমধ্যেই ৬৮,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

জলপাই বাগানের ওপর এই ধ্বংসাত্মক আক্রমণগুলি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, ফিলিস্তিনিদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত পরিচয়ের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। জলপাই গাছ তাদের ভূমি ও পরিবারিক ঐতিহ্যের প্রতীক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমৃদ্ধি ও সুরক্ষা নিয়ে এসেছে। দখলদার ইসরাইলি শক্তি এই গাছের ধ্বংসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব ও তাদের জীবনযাত্রা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

ফিলিস্তিনিদের ক্ষতি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান। তারা বলছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক আলোচনায় বা বিবৃতিতে নয়, বাস্তব পদক্ষেপই ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও তাদের সংস্কৃতি রক্ষায় কার্যকর হবে।

এই অব্যাহত সহিংসতা ও আক্রমণের মধ্যে, ফিলিস্তিনের কৃষকরা এখনও জলপাই বাগান রক্ষার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের চেষ্টার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ফিলিস্তিনিদের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফিলিস্তিনিদের জীবিকা ও সংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে জলপাই গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে দখলদার ইসরাইলি শক্তির অব্যাহত হামলা এবং বসতি স্থাপনকারীদের কার্যক্রম এই প্রতীকী বৃক্ষগুলোর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে রেখেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা বা কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ফিলিস্তিনিরা প্রতিনিয়ত তাদের জীবন ও ঐতিহ্যের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতি প্রদর্শন করছে, যে রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান জড়িত হলে সাধারণ মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জলপাই গাছ ফিলিস্তিনিদের জন্য শুধু কৃষি পণ্য নয়, এটি তাদের অস্তিত্ব, ঐতিহ্য এবং জীবনধারার অঙ্গ, যা প্রতিনিয়ত রক্ষা ও সমর্থনের দাবি রাখে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত