প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতীক তালিকায় নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে “শাপলা কলি”। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসির সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকের এই তালিকায় সংযোজন-বিয়োজনের অংশ হিসেবেই ‘শাপলা কলি’ স্থান পেয়েছে। কিন্তু প্রতীক প্রকাশের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন এক বিতর্ক—বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন মহলে।
এনসিপি দীর্ঘদিন ধরেই “শাপলা” প্রতীক পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। দলটির নেতা-কর্মীদের মতে, “শাপলা” প্রতীকটি জাতীয় ঐতিহ্য ও পরিচয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং দলের আদর্শ ও দর্শনের প্রতীক হিসেবেই এটি সবচেয়ে উপযুক্ত। কিন্তু ইসির তালিকায় হঠাৎ “শাপলা কলি” অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দলটির মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার গেজেট প্রকাশের পরপরই এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “শাপলা কলি প্রতীক হিসেবে আগে কখনো ছিল না। এখন সেটি হঠাৎ করে তালিকায় এসেছে—এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা জানতে চাই, শাপলা কলি যুক্ত হলো কীভাবে? এবং যদি শাপলার কলি থাকতে পারে, তাহলে পূর্ণ শাপলা কেন রাখা যাবে না?”
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কারণ, নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই জানত যে আমাদের দল শাপলা প্রতীকের দাবি জানিয়ে আসছে। তারপরও তারা সেটিকে বাদ দিয়ে অন্য একটি প্রতীক তালিকাভুক্ত করল। এটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিকভাবেও একটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত।”
এদিকে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, “আমরা শাপলাই চাই। শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। আমরা শুরু থেকেই শাপলা প্রতীক চেয়ে আসছি। তখন নির্বাচন কমিশন বলেছিল, তালিকায় নেই, তাই দেওয়া যাবে না। এখন তারা ‘শাপলা কলি’ অন্তর্ভুক্ত করেছে—কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা কী? আমরা ইসির কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক নির্ধারণের ক্ষেত্রে কমিশন নির্দিষ্ট একটি তালিকা অনুযায়ী কাজ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু প্রতীক বাদ দেওয়া হয়, আবার কিছু নতুন প্রতীক যুক্ত করা হয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের পেছনে রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিগত দাবি থাকলে বিষয়টি কমিশনের আলোচ্য সূচিতে আসে।
একজন সিনিয়র ইসি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “শাপলা কলি প্রতীক সংযোজন একটি সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতীকের তালিকা আপডেট করা হয় সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী। এতে কোনো বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাত নেই।”
কিন্তু এনসিপি নেতৃত্ব এটিকে সাধারণ প্রক্রিয়া বলে মেনে নিতে রাজি নয়। তাদের দাবি, প্রতীক তালিকায় হঠাৎ এমন পরিবর্তন আনা হলে এর পেছনে অবশ্যই কোনো প্রভাব বা উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সারোয়ার তুষার বলেন, “এটা কেবল প্রতীক নয়, এটি একটি দলের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রতীক। আমরা দেখতে চাই, এই প্রক্রিয়াটি কতটা আইনি ও নৈতিক।”
এনসিপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাবে, যেখানে “শাপলা কলি” প্রতীকের সংযোজনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। দলটি প্রয়োজনে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত নেওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে ইসি বলেছে, প্রতীকের তালিকা প্রকাশের পর কোনো দল চাইলে তাদের লিখিত আপত্তি বা পরামর্শ কমিশনে জমা দিতে পারে, যা পরবর্তী পর্যালোচনায় বিবেচনা করা হবে।
সবশেষে বলা যায়, “শাপলা কলি” সংযোজন কেবল একটি প্রশাসনিক আপডেট নয়—এটি নির্বাচনী রাজনীতির প্রতীকের প্রতিযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের দাবিতে অনড় থেকে “শাপলা” প্রতীক ফেরত পেতে সক্ষম হয় কি না, নাকি “শাপলা কলি”-কেই নতুন বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেয়।