হাসনাত আবদুল্লাহ: স্বাক্ষর করেছেন তো সংসারও চালাতে হবে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪০ বার
বাংলাদেশে দিল্লির আধিপত্য মানা হবে না: হাসনাতের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় এক পথসভায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তিমূলক অবস্থানের বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, একটি দল জুলাই সংবিধান সনদে স্বাক্ষর করেছেন, কিন্তু পরে সেই স্বাক্ষরের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং তাদের নীতি ও অবস্থানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লাকসাম সদরের বাইপাস এলাকায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “নাসির ভাই আজকে বলেছেন, স্বাক্ষর করার পরে আবার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিয়েই যদি করবা না, তাহলে কাবিনে সিগনেচার কেন করলা। সংসার যদি নাই করবা, তাহলে কবুল কেন বললা। কাবিনে যেহেতু সিগনেচারও করেছেন, আপনাদের সংসারও করতে হবে। সংসার যদি না করতে চান, রাস্তা খোলা আছে। জনগণের সামনে এসে বলতে হবে আমরা ডিভোর্স দিতে চাই। জনগণের সামনে মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। জনগণকে বোকা বানিয়ে সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া যাবে না।”

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব। তিনি সরাসরি সমালোচনা করেছেন সেই সব দল বা নেতাদের, যারা জনগণের সামনে এক রকম প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরে তা পাল্টে দেন। তার ভাষায়, স্বাক্ষর গ্রহণ মানে দায়বদ্ধতা, আর দায়িত্ব নিলে সেটি অনুসরণ করতে হবে। তিনি এ কথা বলার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের কর্মপন্থায় সততা ও জনমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

এ দিনের পথসভা কেবল সমালোচনার মঞ্চই ছিল না, বরং এনসিপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একত্রিত উদ্যোগের সাক্ষী ছিল। হাসনাত আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে ফিতা কেটে লাকসাম উপজেলা এনসিপির কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক (কুমিল্লা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক) নাভিদ নওরোজ শাহ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ লাকসামের জিসানের নানা জাবেদ মিয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক সালাউদ্দিন জাবের এবং লাকসাম উপজেলা সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম। পথসভা সঞ্চালনা করেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. আশিকুল ইসলাম।

সভা শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জনমত গঠনের লক্ষ্যে এনসিপির পক্ষ থেকে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য ও দলের কার্যক্রম স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ভোটারদের মধ্যে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, নেতৃত্বের দায়িত্ব এবং জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতির পূর্ণতা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

এ দিনে হাসনাত আবদুল্লাহ রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতি ও দায়িত্বের সংজ্ঞা তুলে ধরেন, যেখানে তিনি স্বাক্ষরকে শুধু আনুষ্ঠানিক নয়, বরং জনমতের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার বক্তব্যে বলা যায়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তার প্রতিটি পদক্ষেপ জনমতের সঙ্গে সমন্বিত হওয়া প্রয়োজন।

লাকসামের পথসভা রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এনসিপির স্থানীয় নেতৃত্বের শক্তিশালী অবস্থান প্রদর্শনের সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের নেতা-কর্মীরা দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও স্বাক্ষরকে তারা জনগণের সামনে প্রতিফলিত রাখবেন। এই ধরণের মঞ্চ স্থানীয় জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলের নীতি ও লক্ষ্য স্পষ্টভাবে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য এবং পথসভা কার্যক্রম নির্দেশ করছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনমতের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য অংশ। স্থানীয় জনগণের কাছে দল এবং নেতা-কর্মীদের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের পথসভা রাজনৈতিক সমালোচনা ও মত প্রকাশের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উপস্থিতি ও বক্তব্যের মাধ্যমে এনসিপি দলীয় নেতৃত্ব এই বার্তাও দিয়েছে যে, রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতি, দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতা ছাড়া কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাক্ষর নেওয়া মানেই দায়িত্ব নেওয়া, আর দায়িত্ব পালন না করলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো অনিবার্য। হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য এ মর্মেই ছিল যে, জনগণকে বোকা বানিয়ে কোনো অবস্থান গ্রহণ করা যেতে পারে না, প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপের জন্য জনমতের সম্মান অতি গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষে, লাকসামে অনুষ্ঠিত এই পথসভা স্থানীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে সচেতন করার পাশাপাশি এনসিপির নীতি, নেতৃত্ব এবং জনমতের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, প্রতিশ্রুতি এবং দায়বদ্ধতা বজায় রাখাই একটি শক্তিশালী ও দৃষ্টান্তমূলক রাজনৈতিক নেতৃত্বের চাবিকাঠি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত