প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ভারতের কংগ্রেস দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে আবারও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) দেশে নিষিদ্ধ করার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার বল্লভভাই প্যাটেল সরকারি কর্মচারীদের আরএসএসের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তবে বিজেপি সরকার ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। খাড়গের মতে, সেই নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর করা উচিত।
শুক্রবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে খাড়গে আরও বলেন, তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে আরএসএসকে নিষিদ্ধ করা জরুরি। তিনি আরএসএসের আদর্শকে ‘বিষের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি স্মরণ করান, সরদার প্যাটেল ১৯৪৮ সালে একটি চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন, আরএসএস মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড উদযাপন করেছিল এবং সেই কারণে এটি দেশ ও জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল। খাড়গে বলেন, এই সংগঠন ও হিন্দু মহাসভার মতাদর্শের কারণে দেশে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, সেটিই গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পেছনে দায়ী।
খাড়গে আরও বলেন, প্যাটেলের সময় সরকার আরএসএসকে নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, কারণ সেই সংগঠন সরকারী কর্মচারীদের মধ্যে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছিল। তিনি জানান, বর্তমান বিজেপি সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, যা তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।
কংগ্রেস সভাপতি আরও উল্লেখ করেন, কর্ণাটক রাজ্যে কংগ্রেস সরকার সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের আরএসএসের র্যালিতে অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। খাড়গে জোর দেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং ন্যায্য প্রশাসন নিশ্চিত করতে আরএসএসের মতো সংগঠনগুলোর ওপর সঠিক নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
এই দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত বিজেপি কংগ্রেসের সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে সরদার প্যাটেলের অবদানকে ‘উপেক্ষা’ করেছে এবং এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাঁর নাম ব্যবহার করছে।
খাড়গে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরদার প্যাটেলের নির্দেশনা এবং ইতিহাসের প্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারীদের রাজনীতিতে স্বার্থপর এবং ক্ষতিকর অংশগ্রহণ রোধ করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের আইন ও নীতি অনুসারে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই দাবির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আরএসএসের বিরোধিতা ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের পুরোনো অবস্থানের পুনঃপ্রকাশ এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।