১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য সংকটে পড়বে-(এফএও)

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৯ বার
১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ডিসেম্বরের মধ্যে বিপদে পড়বে-(এফএও)

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের দুর্যোগপ্রবণ ৩৬ জেলার প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বড় ধরনের খাদ্যসংকটে পড়তে যাচ্ছে, এমনকি ১৬ লাখ শিশু চরম অপুষ্টির সম্মুখীন হবে বলে জানানো হয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট (এফপিএমইউ) এবং জাতিসংঘের তিনটি সহযোগী সংস্থার যৌথ প্রতিবেদন অনুসারে।

এফপিএমইউ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ইউনিসেফ ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ (আইপিসি) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেশের ৩৬ জেলার খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টির অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোর মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি শঙ্কার মধ্যে রয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরে তাদের খাদ্যসংকট আরো তীব্র হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় বছরের শেষ আট মাসে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে গত বছরের তুলনায় খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলি জরুরি খাদ্য সহায়তা, পুষ্টিসেবা ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতে সহায়তা প্রদানের সুপারিশ করেছে।

খাদ্যসংকটে পড়তে যাচ্ছে কক্সবাজার, বান্দরবান, বরগুনাসহ অন্যান্য জেলাপ্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ১৩টি জেলার প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটে (ধাপ ৩) পড়তে যাচ্ছে। এই জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বান্দরবান, রাঙামাটি, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ। বিশেষত কক্সবাজার ও ভাসানচর অঞ্চলের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ খাদ্যসংকটের মুখে পড়বে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় জনসংখ্যা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যেখানে ৩০ শতাংশ মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে।

অপুষ্টির আশঙ্কা ১৬ লাখ শিশুএছাড়াও, আইপিসি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৮টি দুর্যোগপ্রবণ জেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১৬ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির সম্মুখীন হবে। এতে কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা শিবিরে ৮১ হাজারের বেশি শিশু অপুষ্টির শিকার হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ লাখ ১৭ হাজার অন্তঃসত্তা মা ও তাদের শিশুরাও অপুষ্টির সমস্যায় ভুগবে, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

খাদ্য নিরাপত্তা ও সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপখাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান আইপিসি প্রতিবেদনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমরা দ্বিমত পোষণ করি না, সমস্যা রয়েছে। তবে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা কমানোর জন্য কাজ করছে।” তিনি আরো বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা রোধে বৈশ্বিক মহামারি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, ডব্লিউএফপি বাংলাদেশ ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট, এবং এফএও বাংলাদেশের উপপ্রতিনিধি ডিয়া সানৌ। তারা খাদ্য নিরাপত্তা ও অপুষ্টি রোধে প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা জরুরিএফএও ও ডব্লিউএফপির প্রতিনিধিরা মন্তব্য করেন যে, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার বিপর্যয় মোকাবিলায় সঠিক পরিকল্পনা ও যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। সেইসাথে দুর্যোগের প্রস্তুতি, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং পুষ্টি সহায়তার ব্যবস্থা অবিলম্বে বাড়ানো প্রয়োজন। এ ছাড়া কৃষি ও মৎস্য খাতে সহায়তা বাড়ানো, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এফপিএমইউ’র মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সব পক্ষই একমত হন যে, একক কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সমন্বিত এবং কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হয়।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও অন্যান্য সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে, যা দেশব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা এবং অপুষ্টির হার কমাতে সহায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত