নিরাপদ ভবন নির্মাণে প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধি প্রয়োজন: গণপূর্ত উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩২ বার
নিরাপদ ভবন নির্মাণে প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধি প্রয়োজন: গণপূর্ত উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীতে সোমবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে গণপূর্ত ও গৃহায়ণ বিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ভবন নিরাপত্তা ও দূর্যোগ প্রশমন বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কেবল আইন প্রয়োগ করলেই যথেষ্ট নয়, বরং পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার, ভূমিকম্পসহনশীল ডিজাইন এবং নির্মাণ সামগ্রির গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

উপদেষ্টা জানান, সরকার ভবন নির্মাণের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি বলেন, “একটি ভবন শুধু স্থাপত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্দর নয়, বরং সেটি শক্ত ও নিরাপদ হতে হবে। দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সে মানুষের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হবে। এজন্য আমরা প্রযুক্তি ও দক্ষতার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, ভবন নির্মাণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতের প্রতিটি ভবন হবে নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব। এই চারটি বিষয় হলো: প্রথমত, সঠিক এবং মানসম্মত নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার; দ্বিতীয়ত, ভূমিকম্পসহনশীল প্রযুক্তি প্রয়োগ; তৃতীয়ত, অভিজ্ঞ এবং দক্ষ পেশাজীবীর তদারকি; এবং চতুর্থত, অনুমোদনের সময় সঠিক নীতি ও আইন অনুসরণ।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিরাপদ ভবন নির্মাণে একটি “আর্বান ডিজাস্টার ল্যাব” গঠন করা প্রয়োজন। এই ল্যাবের মাধ্যমে ভবন নির্মাণের প্রাথমিক ডিজাইন থেকে শুরু করে নির্মাণের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ডিজাইন ও নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে মান ও গুণগততার তদারকি করা অপরিহার্য। কনসালটেন্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কোনো ভবনই পুরোপুরি নিরাপদ হবে না।

প্রকৌশলীরা সেমিনারে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র কঠোর আইন থাকলেই ভবন নিরাপদ হবে না। প্রকল্পের পরিকল্পনা, ডিজাইন, অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তি ব্যবহার ও মানবসম্পদ দক্ষতার প্রয়োজন। ভূমিকম্প এবং অগ্নি ঝুঁকি বিবেচনায় নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন সেভিয়ার ড্যাম্পার, ফ্লেক্সিবল স্ট্রাকচার এবং উন্নত নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা যেতে পারে।

উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, সরকারের লক্ষ্য ভবনকে শুধু স্থায়ী করা নয়, বরং তা মানুষ ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ, টেকসই এবং জীবনধারণ উপযোগী করা। তিনি বলেন, “প্রতিটি ভবন যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে টিকে থাকতে পারে। এজন্য আমরা শুধু নীতি-নিয়মের ওপর জোর দিচ্ছি না, পেশাজীবীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেও মনোযোগ দিচ্ছি।”

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, রাজধানীর দ্রুত বাড়তে থাকা আঞ্চলিক ও বহুতল ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত প্রযুক্তি এবং পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ অত্যাবশ্যক। তারা বলেন, নির্মাণ সামগ্রী ও ডিজাইন পদ্ধতির গুণগত মান নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগ বা অগ্নিকাণ্ডে জনহানির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূমিকম্পসহনশীল ভবন তৈরি করা একদিকে যেমন জীবন রক্ষা করবে, অন্যদিকে এটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। তারা বলেন, বাংলাদেশের মতো ভূ-তাত্ত্বিকভাবে অস্থির অঞ্চলে ভবন নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, সরকার ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় ডিজাইন ও নির্মাণের প্রতিটি পর্যায় পর্যবেক্ষণ করছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে কোনো দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা স্থানীয় প্রশাসন, পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণ কোম্পানির সঙ্গে সমন্বয় করছি। এটি এককভাবে কোনো এক সংস্থার দায়িত্ব নয়।”

সেমিনারে রাজউকের প্রকৌশলীরা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ হলে ভবন শুধু দৃঢ় ও নিরাপদ হবে না, বরং তা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকেও মুক্ত থাকবে। তারা বলেন, নির্মাণ সামগ্রী, ডিজাইন এবং তদারকির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা আবশ্যক।

উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এই সেমিনারের মাধ্যমে ভবন নির্মাণে সরকারের উদ্যোগ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ভবনকে শুধু স্থায়ী করা নয়, এটি যেন প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হয়। এজন্য প্রযুক্তি, দক্ষতা, মানসম্মত নির্মাণ সামগ্রী এবং কনসালটেন্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের সেমিনার ও সচেতনতা কর্মসূচি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নগরায়ণকে আরও নিরাপদ এবং টেকসই করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজধানীর মতো দ্রুত উন্নয়নশীল শহরে যেখানে বহুতল ভবন বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেখানকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য এক প্রাথমিক দায়িত্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত