জোট করলেও ভোট দিতে হবে নিজ দলের প্রতীকে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার
নির্বাচনকে ঘিরে ‘নিরপেক্ষ’ ৬৩৯ ওসির সন্ধানে পুলিশ সদর দপ্তর

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দলীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে সরকার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (আরপিও) গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এই অধ্যাদেশে নির্ধারণ করা হয়েছে, যে নিবন্ধিত দল জোট গঠন করলেও তাদের মনোনীত প্রার্থীরা নিজের দলের প্রতীকে ভোট প্রাপ্ত হবেন এবং অন্য দল বা জোটের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

নতুন অধ্যাদেশটি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য বিশেষভাবে প্রণীত। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের বিভ্রান্তি রোধ করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিটি দলের স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিত করা। এ পদক্ষেপে জোট গঠনের সময়ও প্রতিটি দলের স্বকীয়তা বজায় থাকবে। ফলে, নির্বাচনী মাঠে জোটবদ্ধ দলের প্রার্থীরা বড় বা অন্য দলের প্রতীক ব্যবহার করে ভোট পাওয়ার সুযোগ পাবেন না। ভোটাররা নিজের পছন্দের দল অনুযায়ী সরাসরি ভোট দিতে সক্ষম হবেন।

এর আগে, ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। ওই বৈঠকে দলগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। খসড়া অনুমোদনের পর বিএনপি সংশোধনের কিছু দিক নিয়ে আপত্তি তুললেও, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অধ্যাদেশের সংশোধন বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা আইন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন সংশোধনসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক হালনাগাদ করেছে। এছাড়াও ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, সাংবাদিক নীতিমালা ইত্যাদি নিরীক্ষণ ও সংশোধন করা হয়েছে। এই ধাপে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন ভোটারদের জন্য সুবিধাজনক হবে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিভ্রান্তি কমানো, জোট প্রার্থীদের স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি দলীয় পরিচয় রক্ষার জন্য এটি কার্যকর পদক্ষেপ। বিশেষ করে বড় দল ও ছোট দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বিধান এই অধ্যাদেশকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

আরপিও-২০২৫ অনুযায়ী, জোটবদ্ধ দলের মনোনীত প্রার্থীরা শুধু নিজের দলের প্রতীকে ভোট প্রাপ্ত হবেন। কোনো প্রার্থী বড় দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। ফলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হবেন না এবং ভোটারদের প্রাপ্য অধিকার রক্ষা পাবে। রাজনৈতিক সমালোচকরা মনে করছেন, এটি নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এদিকে, ভোটার এবং রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, জোটবদ্ধ দল মানেই অন্য দলের প্রতীক ব্যবহার করার অনুমতি নয়। এর ফলে প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের দলীয় পরিচয়কেই প্রধান্য দেবেন। এই ধারা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি দলীয় পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচনী মাঠে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দলের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করবে। জোট বা সমঝোতা থাকলেও ভোট প্রক্রিয়ায় প্রতিটি দলের স্বকীয়তা নিশ্চিত করা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, ভোটারদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভোটাররা নিজের পছন্দের দলের প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটারদের সচেতন ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

এভাবে, নতুন আরপিও-২০২৫ অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ দলও নিজ দলের প্রতীকের মাধ্যমে ভোট প্রাপ্ত হবেন। এটি নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল এবং প্রতিটি দলের স্বতন্ত্র পরিচয় রক্ষা করার দিকে এগিয়ে নেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত