স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, রুপার বাজার স্থিতিশীল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
স্বর্ণের দাম বাড়ল, ভরি প্রতি ৩৪৫৩ টাকা বৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণ বাজারে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। গত শনিবার, ১ নভেম্বর, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ঘোষণা করে যে, স্বর্ণের বাজারদর প্রতি ভরি ১ হাজার ৬৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ২ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ টাকায়। নতুন এই দাম আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) থেকে স্থানীয় বাজারে কার্যকর থাকবে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যের ওঠাপড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। বিশেষত পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বাজারে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমন্বয় করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (২ নভেম্বর) থেকে এই সমন্বয় কার্যকর করা হয় এবং ক্রেতাদের জন্য আজ থেকে নতুন মূল্য প্রযোজ্য হবে।

নতুন দামের প্রেক্ষিতে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৮০ টাকায়। স্বর্ণের এই নতুন বাজারমূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির হার সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে দাম বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের এই চাপ বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে নতুন সমন্বয় প্রয়োজন হয়েছে।

বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজার মূলত বিনিয়োগ এবং সঞ্চয়ের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। শীতে ও উৎসবের মরসুমে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, এবং এমন সময় আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন দেশীয় ক্রেতাদের জন্য সরাসরি প্রভাব ফেলে। বাজুসের এই নতুন দাম দেশের বাজারে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়ার জন্য ন্যায্য এবং কার্যকর সমন্বয় হিসাবে দেখা হচ্ছে।

স্বর্ণের দামের বৃদ্ধির তুলনায় রুপার বাজারে কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রুপার দাম স্থিতিশীল থাকায় ক্রেতারা স্বর্ণে বিনিয়োগের সময় তুলনামূলকভাবে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশীয় বাজারের সমন্বয় রাখার জন্য বাজুসের এই ধাপ প্রয়োজনীয়। ক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, নতুন দামের বিজ্ঞপ্তি এবং স্থানীয় বাজারে সমন্বয় এই সিদ্ধান্তকে কার্যকর এবং সময়োপযোগী করে তুলেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি দেখছে এবং ক্রেতারা উচ্চ মূল্যের কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ায় সতর্ক হচ্ছেন। তবে রুপার বাজার স্থিতিশীল থাকায় ধাতব বাজারে সামগ্রিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।

বাজুসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার ফলে ক্রেতারা নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে পারবেন। বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করা হবে। ক্রেতাদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা, বাজারের পরিবর্তন ও মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

স্বর্ণ ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠাপড়া তাদের ক্রয় পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায়, নতুন দাম অনুযায়ী ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা সতর্ক ও প্রস্তুত হচ্ছেন।

এভাবে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব বিবেচনা করে বাজুসের নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে। স্বর্ণ ক্রেতা, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীরা নতুন দাম অনুযায়ী কার্যক্রম চালাবেন এবং রুপার দাম স্থিতিশীল থাকার কারণে বাজারে সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত