মনোনয়ন না পেয়ে রুমিন ফারহানা জানালেন ‘অন হোল্ড’ অবস্থার কারণ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
মনোনয়ন না পেয়ে রুমিন ফারহানা জানালেন ‘অন হোল্ড’ অবস্থার কারণ

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন বিএনপির বিশিষ্ট নেত্রী রুমিন ফারহানা। সোমবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে ২৩৭টি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হলেও রুমিন ফারহানার আসনের নাম তালিকায় স্থান পায়নি। তার আসন ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে, দলের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

রুমিন ফারহানা বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি একটি টকশোতে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, তার মনোনয়ন আপাতত ‘অন হোল্ড’ অবস্থায় রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে বিএনপির দীর্ঘদিনের সহযোগী দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি সংক্রান্ত জোটগত সমঝোতা। তিনি বলেন, “৬৩টি আসন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। আমাদের সাথে কিছু নতুন দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। দীর্ঘ ১২-১৫ বছর ধরে যেসব দল বিএনপির পাশে ছিল, তাদের সঙ্গে আসন বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই এখনো কিছু আসন ঝুলে আছে। দল ‘উইনেবল’ প্রার্থী খুঁজে দেখছে, সেই বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

রুমিন ফারহানা আরো বলেন, দলকে বড় হওয়ার কারণে অনেক আসনে একাধিক প্রার্থী দাঁড়িয়ে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করা জটিল হয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় নেতাকর্মীদের আবেগকে শ্রদ্ধা করা উচিত। মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। দলের নেতৃত্ব প্রার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন এবং মনোনয়ন বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেছেন।”

তিনি প্রাথমিক তালিকা সম্পর্কে জানান, এটি এখনও চূড়ান্ত নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। কেউ বাদ পড়তে পারেন, আবার নতুন কেউ যুক্ত হতে পারেন। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আইনি জটিলতার কারণে কয়েকটি আসনের মনোনয়ন স্থগিত রয়েছে। তিনি বাগেরহাট-২ আসনকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়নি।

রুমিন ফারহানা জানান, দল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক জটিলতা বিবেচনা করে আসন বণ্টন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দল এবং জোটের মধ্যে সমঝোতা শেষে দ্রুত এ বিষয় চূড়ান্ত হবে। এছাড়া তিনি বলেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। প্রার্থীদের সংখ্যা বড় দলের জন্য স্বাভাবিকভাবেই বেশি, তাই কিছু আসনে অসন্তোষ থাকাটাও আপাতত অনিবার্য।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল বিএনপির আরেক আলোচিত নেতা ফজলুর রহমানের মনোনয়ন। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। রুমিন ফারহানা বিষয়টি তুলনামূলকভাবে শান্তভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, দল দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশল এবং জোটের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, দলের নেতৃত্ব সকলকে নিয়মিতভাবে আপডেট দিয়েছেন। এই প্রাথমিক তালিকা থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই এবং মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া রুমিন ফারহানা দলের অন্যান্য নেতাদের সাথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবেন।

রাজনীতিবিদদের মতে, প্রাথমিক তালিকায় কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি জোট এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। রুমিন ফারহানার মতো অভিজ্ঞ নেত্রীও বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং দলের জোটগত পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছেন।

এই প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা এবং জনমত বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি কিছু অস্থায়ী বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু দল এবং প্রার্থীরা এটি সমাধান করে কার্যকর নির্বাচন প্রস্তুতি গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

রুমিন ফারহানা স্পষ্ট করেছেন, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে হতাশাজনক হলেও, দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জাতীয় স্বার্থের কারণে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য। তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সমর্থন বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, দল চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করলে সকলের জন্য পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অনেক গুরুত্ব আরোপ করছে। প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হলেও, শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর ফলে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও জোটগত সমঝোতা নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হলে দল এবং জোটের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে। নির্বাচনের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ, জনসংযোগ ও সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ অব্যাহত রাখা হবে। তিনি মনে করেন, নেতাকর্মীদের ইতিবাচক মনোভাব এবং সমর্থন দলের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।

প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনী প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে রুমিন ফারহানার মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার পাশাপাশি আশার আলোও দেখা যাচ্ছে। দল এবং সমর্থকরা আশা করছেন, আসন বণ্টন চূড়ান্ত হওয়া মাত্র তার প্রার্থীতা নিশ্চিত হবে এবং তিনি নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

এইভাবে, রুমিন ফারহানার প্রাথমিক তালিকায় মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি এখনো অস্থায়ী অবস্থায় রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলীয় ও জোটগত সমঝোতার কারণে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হলে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রুমিন ফারহানার মতো অভিজ্ঞ নেত্রী দলের সাথে সমন্বয় রেখে নির্বাচন প্রস্তুতি অব্যাহত রাখবেন এবং ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত