প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি অর্থায়ন ব্যাহত-শাটডাউনের কারণে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে তীব্র ফ্লাইট বিপর্যয়ের দেখা দেওয়া শুরু হয়েছে। এই শাটডাউনে অংশ-দায়ী হচ্ছে শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, বরং এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যা সরাসরি সাধারণ যাত্রী ও বাণিজ্যিক পরিবহনকে প্রভাবিত করছে। একথা বলা যায় যে এখন আর শুধু সংস্থা ও কর্মচারী সংকটের গল্প নয়—এটি এভাবে ছড়িয়ে গেছে যে বিমানের উড়ানের সময়সূচি ধ্বংস হয়ে পড়ছে, হাজার হাজার যাত্রী দেরিতে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছে।
শাটডাউনের ফলে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে Federal Aviation Administration (এফএএ) ও Transportation Security Administration (টিএসএ)-র মতো বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অব্যাহত কর্মক্ষমতায়। এই সংস্থাগুলোর কর্মীরা ‘আবশ্যকীয়’ হিসেবে কাজ করলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাননি। এর পরিণামে এক-একটি বিমানবন্দরেই নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা কার্যক্ষম নিয়ন্ত্রণকারী কম থাকছে। এভাবে বিমানচালনায় নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় এফএএ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিমানের যোজনাগুলো স্বাভাবিক রাখতে না পারার কথা স্বীকার করছেন।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি আলোচনায় এফএএ জানিয়েছে যে, নির্দিষ্ট বিমানবন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ের জন্য বিমান ছাড়তেও বাধা দেওয়া হয়েছে। কারণ নিয়ন্ত্রণকক্ষ পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা পাচ্ছে না। একটি রিপোর্টে দেখা গেছে, ওরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ডালাস/ফোর্টওার্থ ও ওয়াশিংটন ডিসির সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণে নানা রকম বিলম্ব ও গ্রাউন্ড-স্টপ (ভূমি নজরদারি বন্ধ) ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানের অপেক্ষাকৃত সময় বেড়েছে; কখনও বিমান কিছুক্ষণের ব্যবধানে বাতিল, কখনও ভয়ঙ্করভাবে দেরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে নিয়ন্ত্রণকক্ষ প্রায় অন্য-রূপে পরিচালিত হয়েছে, যেমন স্বয়ং পাইলটদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে বা নিয়ন্ত্রণকারী সংক্ষিপ্ত পরিসরে কাজ করেছে। এসব কারণে যাত্রীদের জন্য বিমানে ওঠা এবং সংযোগ রুপান্তর করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক এলাকায় এক সময়ে প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা না উপস্থিত থাকায় বিমান পরিষেবা ধীর পড়ে গেছে।
এই সব কিছু একসাথে গঠন করেছে এমন এক চিত্র যেখানে রাজনৈতিক অচলাভাব, অর্থায়ন সংকট ও কর্মী-সংযোজন সংকট একত্রে বাসিন্দা-যাত্রী ও ব্যবসায়িক পরিবহনপন্থা উভয়ের জন্যই বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, তারা বিমানবন্দরে পৌঁছে দেখছেন গেট নম্বর বদলে গেছে, বাতিল হয়েছে সংযোগ বিমান, কিংবা এমন ধরনের বিলম্ব হয়েছে যা আগে অচিন্তনীয় ছিল।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা এসেছে—নিরাপত্তা ঝুঁকি গ্রাস করছেনা, বিমানচালনায় সচলতা বজায় রাখা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, এফএএ জানাচ্ছে যে নিরাপত্তা হ্রাস পায়নি, তবে গতানুগতিক সময়সূচির চেয়ে অনেক বেশি দেরি হচ্ছে এবং বাতিলের হারে বৃদ্ধি হয়েছে। এটি পরিবহনশিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিমানের যাত্রীদ্বারে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো এবং যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে কয়েক মিলিয়ন যাত্রী এই শাটডাউনের কারণে বিমানযাত্রায় প্রভাবের মুখোমুখি হয়েছেন।
নিরাপত্তার বিষয়েও যাত্রীদের মনে শঙ্কা থাকছে। যদিও এফএএ জানাচ্ছে যে যাত্রা নিরাপদ রয়েছে, তবুও বিমানের সময়সূচি বিঘ্নিত হতেই কিছু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ লম্বা পথে, অনেক যাত্রী আইনগত বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেরিতে পৌঁছেছে বা তাদের সংযোগ বিমান হারিয়েছে। এই সব পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত যাত্রায় ক্ষতি করছে না, বিমানের মালামাল পরিবহন, করিডোর রপ্তানি ও আমদানির ট্রানজিট কার্যক্রমেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
এই শাটডাউনের প্রসঙ্গটি যে বিমানে সীমাবদ্ধ নেই, তা বোঝা যায়। মোট সময় বিবেচনায় নিলে, এই অর্থায়ন ব্যাহত-প্রক্রিয়া শুধু বিমানবন্দরগুলোকে নয়, পুরো দেশীয় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সংযোগকে হিমশিম খাইয়ে রেখেছে। কালক্রমে এই ধরনের অবস্থা দেখিয়ে দিয়েছে যে বিমানে যাত্রাকালে ‘অপছন্দের বিলম্ব’ মাত্রাই নয়, বরং বিলম্ব ও বাতিলের হার এক পাল্লায় বেড়েছে—এবং এখন তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষকেও সরাসরি অনুভব করতে হচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে—চূড়ান্ত বাজেট পাস না হওয়া পর্যন্ত এই শাটডাউনের সমাধান মিলবে না। আসন্ন উৎসব ও ছুটির শিক্ষার প্রেক্ষাপটে বিমানে যাত্রার সংখ্যা সাধারণত বাড়ে, যা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। বিমানযাত্রীদের জন্য এখন বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে—“ফ্লাইট হওয়ার আগের দিনেই স্ট্যাটাস চেক করুন, গেট পরিবর্তন বা বাতিলের সম্ভাবনায় সচেতন থাকুন”। বিমানের যাত্রী ও সংস্থা-উভয়ের জন্য এই পরিস্থিতি কঠিন হলেও, সময়ই বলবে এটি কবে শিথিল হবে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘস্থায়ী শাটডাউনের কারণে বিমানে সংকট শুধু সময়সূচির বিলম্ব বা বাতিল হয়ে শেষ হচ্ছে না—এটি এমন এক পরিসরে পৌঁছেছে যেখানে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় ক্ষতিকর রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক deadlock ও অর্থায়নের অচলতায় পরিণতি এখানে এসে পড়েছে মহানগর বিমানবন্দরগুলোর সংযোগভঙ্গ ও বিমানে যাত্রার স্বস্তি হ্রাসের মাধ্যমে। সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্বের বাণিজ্যিক এবং ভ্রমণমুখী পরিবহন—সবক্ষেত্রে এই ধাক্কা পড়েছে। বিষয়টি শুধু সংখ্যাতাত্ত্বিক নয়, মানবিক অভিজ্ঞতায় তার দাগ ফেলেছে।