আইজিসিএফের কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার
আইজিসিএফের কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য সাংবাদিকতার ওপর দুদিনব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এই কর্মশালার আয়োজন করেছে ইন্সটিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) তার ইয়্যুথ স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায়। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীদের দায়িত্ববোধ এবং সমাজে সত্য তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর ভূমিকার ওপর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজম পরস্পরের সঙ্গে মিশ্রিত হলেও এটি সম্পূর্ণ আলাদা ক্ষেত্র। সাংবাদিকতা হলো তথ্যের নির্মোহ, নিরপেক্ষ ও সম্পাদিত প্রকাশ, যেখানে বস্তুনিষ্ঠতা অতি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, অ্যাক্টিভিজম হলো কোনো ব্যক্তির নিজস্ব মতাদর্শ এবং সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করা। বক্তারা আরো বলেন, সমাজের অবহেলিত মানুষের দমন বা অব্যক্ত কথাগুলো তুলে আনা সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব। তবে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনেক সাংবাদিক ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে সংকোচ বোধ করছেন, যদিও সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্যই হলো ক্ষমতাকে সমালোচনার মাধ্যমে জবাবদিহিতার আওতায় আনা।

রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। আইজিসিএফের লক্ষ্য হলো তরুণদের ক্ষমতায়ন, উদ্ভাবনী ও গবেষণাধর্মী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং তাদেরকে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমের বুনিয়াদি দিকগুলো এবং সাংবাদিকতার নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হন।

আইজিসিএফের নির্বাহী পরিচালক শামা ওবায়েদ শিক্ষার্থীদের স্বাগত বক্তব্য দেন এবং কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের আবাসিক প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চীফ অব কমিউনিকেশনস মিগুয়েল ম্যাথুয়েস মুনুজ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুরুল করিম ভুঁইয়া এবং অভিজ্ঞ সাংবাদিক শাহেদ আলম। এই বিশেষ অতিথিরা শিক্ষার্থীদেরকে সাংবাদিকতা সম্পর্কিত বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে রানা ফ্লাওয়ারস বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডিসইনফরমেশন এবং মিসইনফরমেশন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গণমাধ্যমকে এই পরিস্থিতির মোকাবেলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের সমাজে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ, শিশু স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা শক্তিশালী করা সম্ভব।

প্রশিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষণীয় দিক হিসেবে তুলে ধরেন কিভাবে একটি সংবাদ নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করতে হয়, তথ্য যাচাই করার প্রক্রিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিসইনফরমেশন চিহ্নিত করা এবং সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নৈতিক মানদণ্ড। এছাড়া শিক্ষার্থীরা শিখেছেন কীভাবে চাপের পরিস্থিতিতেও সঠিক ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন করা যায়।

কর্মশালার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল শিক্ষার্থীদের কাছে সাংবাদিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা। বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিক শুধুমাত্র সংবাদ সংগ্রাহক নয়, বরং সমাজে তথ্যের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার এক শক্তিশালী মাধ্যম। তারা আরও যোগ করেন, তরুণদেরকে শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সাংবাদিকতার মতো পেশায় প্রবেশ করা একটি মূল্যবান ক্ষেত্র।

আইজিসিএফের লক্ষ্য হলো তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং তাদেরকে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করা। কর্মশালার অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্র্যাকটিক্যাল সেশন ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের আলোকে তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনের কার্যক্রম অনুশীলন করেছেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা কেবল তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে না থেকে সমাজের জন্য দায়বদ্ধ সাংবাদিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুন। তারা যেন নিজেরাই বুঝতে পারে, সত্য তথ্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’’

কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছেন, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্য যাচাই, প্রমাণভিত্তিক রিপোর্টিং এবং সমাজের দুর্বল ও অবহেলিত মানুষের কণ্ঠ তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রশিক্ষণ তাদেরকে এমন দক্ষতা প্রদান করেছে যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণমাধ্যম এবং সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সংক্ষেপে, আইজিসিএফের এই দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরা শুধু বুনিয়াদি তথ্য ও দক্ষতা অর্জন করেননি, বরং তারা একটি দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ হওয়ার মূল্যও বুঝতে পেরেছেন। এই কর্মশালার মাধ্যমে তরুণরা ভবিষ্যতে সমাজে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য প্রচারের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার পথে এগিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত