পাঁচ দিনে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়ে ৩০ টাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ বার
পাঁচ দিনে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়ে ৩০ টাকা

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীসহ দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কয়েক দিনের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজি দরে প্রায় ৩০ টাকা বৃদ্ধি দেখা গেছে। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে থাকলেও রাজধানীর অভিজাত এলাকায় এবং নির্দিষ্ট দোকানগুলোতে এটি আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন (আইপি) না দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি বাজারে প্রভাব ফেলেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। আমদানিকারকরা বলছেন, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ না আসার কারণে দাম বেড়ে গেছে। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট করে কিছু ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে দাম বৃদ্ধি করছে, যার কারণে সাধারণ ক্রেতারা প্রভাবিত হচ্ছেন। এ ধরনের কৃত্রিম সংকটের কারণে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

এই বছরের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের কারণে পেঁয়াজ রোপণ কিছুটা দেরিতে শুরু হয়। এ কারণে নতুন পেঁয়াজ আসতে সময় বেশি লাগতে পারে। দেশের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে এবং আমদানির অনুমোদন না দেওয়া হলে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় উৎপাদন থেকে যে পরিমাণ পেঁয়াজ সরবরাহ করা হচ্ছে তা বাজারের চাহিদা পূরণ করতে যথেষ্ট নয়।

এদিকে, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির অন্য একটি কারণ হলো মজুতকৃত পেঁয়াজের শুকনো হওয়া এবং ওজন কমে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে মাচায় রাখা পেঁয়াজের কারণে এ ধরনের প্রভাব পড়ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা সরবরাহের সময় মুনাফা বজায় রাখতে দাম বৃদ্ধি করছেন। কারওয়ানবাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, আড়ত থেকে তারা বর্তমানে ১০০ থেকে ১০৪ টাকায় পেঁয়াজ কিনছেন। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম লাফিয়ে বেড়ে গেছে।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। সাধারণত সরবরাহ কমলে দুই থেকে চার টাকা বাড়ে, কিন্তু পাঁচ দিনে ৩০ টাকার বৃদ্ধি রহস্যজনক।” শ্যামবাজারের এক আড়তদারও জানিয়েছেন, দেশি পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত থাকা সত্ত্বেও আমদানিকারকরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আনার সুযোগ তৈরি করতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছেন। নয়াবাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানিয়েছেন, মোকামগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক সরকারকে দায়ী করে বলেন, “বাজারে পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। বিপুলসংখ্যক আমদানিকারক আবেদন করেও আইপি দেওয়া হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, যদি সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়, তাহলে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে দাম ৫০ টাকার মধ্যে নেমে আসবে।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলছেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের কারসাজির ফল। দেশে ভালো উৎপাদন থাকলেও তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমদানির পাঁয়তারা করছে। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে পেঁয়াজ চলে যেতে পারে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইপি দেওয়ার ক্ষমতা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হাতে। বাজার পরিস্থিতি, কৃষকের স্বার্থ এবং উৎপাদন পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক বনি আমিন খান বলেন, “পেঁয়াজ আমদানির বিষয় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় অনুমতি না দিলে আইপি দেওয়া সম্ভব নয়।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মনিটরিং ও বাস্তবায়ন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দীন জানিয়েছেন, বাজারে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা বৃদ্ধি মূলত কারসাজির ফল। তবে কৃষকের হাতে এখনো চার লাখ টন পেঁয়াজ রয়েছে, ফলে আগামী দুই মাস কোনো সংকট হবে না। ডিসেম্বর মাসে গ্রীষ্মকালীন ও মুড়িকাটা পেঁয়াজও আসা শুরু হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ড. জামাল আরও বলেন, বিগত ১৫ বছরে যারা বিভিন্নভাবে সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করত, তারা এখন সুবিধা করতে পারছে না। তারা ফের সক্রিয় হয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে কারসাজি করে দাম বাড়ালে কৃষকরা পেঁয়াজ ছেড়ে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে।

এভাবে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে সরবরাহ সংকট, সিন্ডিকেটের কারসাজি এবং আমদানির আইপি অনিশ্চয়তা। তবে কৃষি বিভাগের আশ্বাস অনুযায়ী, কৃষকের মজুত এবং শীতকালে আসা নতুন পেঁয়াজের কারণে বাজারে অস্থিতিশীলতা অল্পদিনের মধ্যে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। সাধারণ ক্রেতাদের স্বাভাবিক দামে পেঁয়াজ কেনার সুযোগ শিগগিরই ফিরে আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত