প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে কারণ নিউইয়র্ক সিটি জোহরান মামদানিকে মেয়র হিসেবে বেছে নিয়েছে। বুধবার মায়ামিতে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এটি সামলে নেবো,” তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। ট্রাম্পের দাবি, নিউইয়র্ক সিটির এই নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও স্বাধীনতার জন্য এক গভীর হুমকি। তিনি বলেন, “আমেরিকান জনগণকে এখন দুটি পথের মধ্যে বেছে নিতে হবে—কমিউনিজম না সাধারণ জ্ঞান, অর্থনৈতিক দুঃস্বপ্ন না অর্থনৈতিক সাফল্যের বিস্ময়।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে যখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি ইতিহাস সৃষ্টি করে নিউইয়র্কের প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ও মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
মাত্র ৩৪ বছর বয়সে নির্বাচিত মামদানি শহরের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কের কুইন্স অঞ্চলে নিম্নবিত্ত ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল ভাড়া স্থগিত, বিনা ভাড়ায় গণপরিবহন, শহর পরিচালিত মুদি দোকান ও ঘণ্টায় ৩০ ডলার ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের মতো সাহসী প্রতিশ্রুতি। ট্রাম্প এই ঘোষণাগুলোকে “কমিউনিজমের প্রতিচ্ছবি” বলে অভিহিত করে দাবি করেন, নিউইয়র্ক এখন এমন পথে হাঁটছে যা পুরো দেশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, “যদি কেউ জানতে চায় ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকার সঙ্গে কী করতে চায়, তাহলে নিউইয়র্কের দিকে তাকাও।” অন্যদিকে, মামদানি তাঁর বিজয় ভাষণে বলেন, “নিউইয়র্কবাসী পরিবর্তন চেয়েছে—এটি কমিউনিজম নয়, এটি মানবিকতা।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এমন একটি শহর গড়বেন যেখানে প্রত্যেকে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল একটি শহরের নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির কৌশলগত অংশ।
তিনি এই ইস্যুকে ব্যবহার করছেন আসন্ন নির্বাচনে রক্ষণশীল ভোটারদের একত্রিত করার হাতিয়ার হিসেবে। অপরদিকে, মামদানির জয় প্রমাণ করেছে, প্রগ্রেসিভ রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের নগরসমাজে এখন আর প্রান্তিক নয়, বরং মূলধারার শক্তি হিসেবে উত্থান ঘটছে। ফলে একদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে ভয়ের রাজনীতি, অন্যদিকে মামদানির জয়ে প্রতিফলিত হয়েছে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। নিউইয়র্ক সিটির এই নির্বাচনী ফলাফল এখন কেবল স্থানীয় ঘটনা নয়; এটি হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শ, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণের এক প্রতীক।