প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের জনগণের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী যথাযথভাবে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদরের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান এসব কথা জানান। অনুষ্ঠানে সেনা সদরের মিলিটারি ইন্টিলিজেন্স পরিদপ্তরের (ডিএমআই) পরিচালক, আইএসপিআরের পরিচালকসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান জানান, সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন হলে তা জাতীয় স্থিতিশীলতা জোরদার করবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনের সময় যেসব দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে, তা মাথায় রেখে আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শান্তিকালে আমাদের প্রধান কাজ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া, তবে গত ১৫ মাস ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা ব্যারাকের বাইরে মোতায়েন রয়েছি। যদি এই অবস্থা নির্বাচন পর্যন্ত চলতে থাকে, আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে।”
সেনাবাহিনী প্রধানের কথায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সেনাবাহিনী ও এর নেতৃত্বকে কলঙ্কিত করার জন্য মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য উর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত এবং এই ধরনের অপপ্রচারে প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই। সেনাবাহিনী নিজের সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সব কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে এবং মিথ্যাকে শুধুমাত্র সত্যের মাধ্যমে প্রতিহত করা হচ্ছে।
গত ১৫ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান বলেন, “সেনাবাহিনী কুমিল্লা, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও সড়ক অবরোধ মোকাবিলায় নিয়োজিত ছিল। আমরা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, কিশোর গ্যাং, ডাকাত ও চাঁদাবাজসহ ১৯ হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছি।”
নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকার বিষয়ে তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের সময় আনুমানিক ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সেনাসদস্য মাঠে মোতায়েন থাকবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্যাম্প স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। সেনাবাহিনী নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করবে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং দেশে কূটনীতিক ও দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সেনাবাহিনী কাজ করছে।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেনা সদর জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতি সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা এখনও আসেনি। বিষয়টি আইনি ও প্রক্রিয়াগত কাঠামোর মধ্যে রয়েছে এবং সেনাবাহিনী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ন্যায্য সমাধানের অপেক্ষায় আছে। এ প্রসঙ্গে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আইসিটি আইনের সংশোধনীতে সরকারি চাকরিতে অযোগ্যতার বিষয়টি এসেছে। তবে সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ‘পাবলিক অফিস’ বা সরকারি পদ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, সেটিও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান পুনরায় উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশনায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে। দেশের জনগণ যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারে, সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য।
এই সংবাদ থেকে স্পষ্ট যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সকল ধরনের দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যারাকে অপেক্ষা করছে।