প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের ছয়টি বিভাগ—রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর—এর মোট ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। প্রার্থীরা আগামী ৮ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
এদিকে, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের দ্বিতীয় ধাপের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনও এই ধাপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক জানান, দ্বিতীয় ধাপের বিজ্ঞপ্তি চলতি মাসের মধ্যে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করে। পরে ৩১ আগস্ট গঠিত হয় আট সদস্যের কেন্দ্রীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ কমিটি, যার চেয়ারম্যান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এবং সরকারি কর্ম কমিশনের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
এরপর ২ নভেম্বর সংশোধিত বিধিমালা প্রকাশ করা হয়। এতে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক পদ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি কিছু শব্দগত পরিবর্তন আনা হয়। নতুন বিধিমালার অধীনে প্রার্থীদের জন্য মোট ২০টি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিবাহিত মহিলা প্রার্থীরা তাদের স্বামী বা পিতার স্থায়ী ঠিকানার যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন। তবে নির্বাচিত ঠিকানার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শিক্ষা থানার জন্য তাদের প্রার্থিতা বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া প্রার্থী যে উপজেলা বা শিক্ষা থানার স্থায়ী বাসিন্দা, তিনি সেই এলাকার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন। জেলা, থানা বা উপজেলার তথ্য ভুলভাবে প্রদান করলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। এছাড়া প্রার্থীদের ধূমপান বা মাদকাসক্ত না হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত। প্রতিটি জেলার শূন্য পদে স্থানীয় প্রার্থীদের নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সমাজে শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং শিশুদের উন্নত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।
প্রথম ধাপের আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে দেশের প্রায় সব জেলার জন্য প্রস্তুত, যা অনলাইনে সম্পন্ন হবে। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে মোট ছয়টি বিভাগের পাশাপাশি দেশজুড়ে আরও ৪ হাজার ১৬৬টি শূন্য পদে শিক্ষকের সুযোগ তৈরি হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্থিতিশীল ও যোগ্য শিক্ষকের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এই নিয়োগ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ সমানভাবে ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়া যুব সমাজকে শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ভিত্তি রচনা সম্ভব হবে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দ্বিতীয় ধাপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে দেশের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার আরও স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা আসবে বলে মন্ত্রণালয় আশা করছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের কাছে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রস্তুতিও ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
এই ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন শিক্ষকরা যোগদান করবেন এবং স্থানীয় সমাজে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। সঠিক প্রার্থীর নিয়োগ নিশ্চিত করতে ও সর্বজনীন সুযোগ প্রদানের জন্য আবেদন প্রক্রিয়ার নিয়মাবলী কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।