ট্রাম্প প্রশাসন বাতিল করেছে ৮০ হাজার নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে নন-ইমিগ্র্যান্ট বা অস্থায়ী ভিসার ওপর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সময়ে মোট ৮০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বুধবার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ভিসা বাতিলের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, মারধর, চুরি এবং অন্যান্য আইনভঙ্গমূলক কর্মকাণ্ড। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা বাতিলের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার হয়েছে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে, ১২ হাজার মারধরের অভিযোগে, আর ৮ হাজার চুরির কারণে বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রেও কঠোরতা চালানো হয়েছে। গত আগস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, সময়সীমা অতিক্রম করা ও আইন লঙ্ঘনের কারণে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন প্রদানের’ অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির একটি অংশ। ক্ষমতায় আসার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া চালু করেছে। নতুন নীতিতে আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম ও অনলাইন উপস্থিতিও যাচাই করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশাসন চাচ্ছে, যে সকল ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তারা আইন ও নিয়ম মেনে চলছেন কিনা তা নিশ্চিত করা।

ওয়াশিংটন এক্সামিনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পর থেকে অভিবাসনের ওপর বিস্তৃত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিল করা হয়েছে এমন সব ব্যক্তি যাদের বৈধ ভিসা থাকলেও তারা আইন লঙ্ঘন করেছেন। এই পদক্ষেপ অভিবাসন নীতি কঠোর করার পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ভিসা বাতিলের খবরের কারণে অনেক অভিবাসী শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং অন্যান্য প্রফেশনালরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাপ্রাপ্তদের আচরণে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আরও জানান, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অভিবাসন নীতি কঠোর করার একটি রূপ। প্রশাসন আশা করছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আগত ভিসাধারীরা আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলবেন এবং দেশটির নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠন ভিসা বাতিলের সংখ্যা এবং কঠোরতার বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা মনে করছেন, নির্দিষ্ট ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ভিসা বাতিলের ফলে অভিবাসীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে বলেছেন, পদক্ষেপটি আইনগত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষার্থী, পর্যটক, এবং বিভিন্ন অস্থায়ী ভিসাধারী ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা বাতিলের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীর অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়াও কঠোর হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত, নিরাপদ এবং সংহত করার লক্ষ্য বহন করছে। যদিও এটি অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে, তবে প্রশাসন দৃঢ়তার সঙ্গে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে আইন মেনে চলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতের অভিবাসন নীতি এবং ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়মকানুনের প্রাধান্য নিশ্চিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত