কীভাবে ইরান ১২ দিনের ইসরায়েলি যুদ্ধে জয়ী হলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার ১২ দিনের সামরিক সংঘর্ষে ইরান অভূতপূর্ব কৌশল এবং নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছে।

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার ১২ দিনের সামরিক সংঘর্ষে ইরান অভূতপূর্ব কৌশল এবং নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানি সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত এবং সুনির্দিষ্ট টার্গেটিংয়ের কারণে ইসরাইলের সামরিক শক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হতে পারেনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

আরাগচি বলেন, ‘আকস্মিক আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করা ইসরাইলের মূল লক্ষ্য ছিল। তারা ভেবেছিল যে, কয়েক দিনের মধ্যে ইরান আত্মসমর্পণ করবে। কিন্তু ইরানি সেনাবাহিনী তাদের পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করেছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেকেই দাবী করেছেন যে, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের আকাশ ইসরাইলি বিমানদের দখলে ছিল, তবে তারা এ বিষয়টি স্বীকার করেন না যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের দ্বারা ইহুদিবাদী শাসিত এলাকার আকাশও কার্যত নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইসরাইলের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মার্কিন ও ইউরোপীয় সহযোগিতার সত্ত্বেও প্রতিহত করা যায়নি। আরাগচি বলেন, ‘ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যাধুনিক হলেও ইরানি আক্রমণ তাদের সামর্থ্যের বাইরে গেছে। আমরা আমাদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

সংবাদে আরও বলা হয়েছে, ACLED-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান কমপক্ষে ১২০বার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উভয়ই ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু হামলা মার্কিন সহায়তায় প্রতিহত করা হলেও কিছু আবাসিক এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

এই সংঘর্ষের ফলে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং কৌশলগত দক্ষতার গুরুত্ব প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের বিজয় মূলত তার উচ্চমানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, পরিকল্পিত টার্গেটিং এবং সেনাবাহিনীর নিখুঁত সমন্বয়ের ফলে সম্ভব হয়েছে। আরাগচি এই বিজয়কে কৌশলগত সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশলের দক্ষতা তুলে ধরে।

তবে যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষকে সামরিক কর্মকাণ্ড এবং হামলার প্রভাব থেকে রক্ষা করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং মানবিক প্রভাবও পড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ১২ দিনের সংঘর্ষকে একটি নজিরযোগ্য সামরিক কৌশল এবং পরিকল্পনার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানি সেনাবাহিনী এ সংঘর্ষে তাদের দক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা অর্জন করেছে তা শুধু সামরিক জেতা নয়, বরং কৌশলগত এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আরাগচি বলেন, ‘ইরান কখনো সহজভাবে আত্মসমর্পণ করবে না, এবং আমরা আমাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিনিয়ত সচেষ্ট থাকব।’

এই ঘটনা বিশ্বে সামরিক কৌশল, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ এবং আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের বিজয় শুধু সামরিক নয়, কৌশলগত, মানসিক এবং রাজনৈতিকভাবে ইসরাইলের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com