ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন: প্রেস সচিবের নিশ্চিত ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন: প্রেস সচিবের নিশ্চিত ঘোষণা

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফের সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, দেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে নেত্রকোনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রেস সচিব এ মন্তব্য করেন।

প্রেস সচিব বলেন, “ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোনো সন্দেহ বা বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই সেই প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “পতিত সরকারের আমলে যারা নানা সুবিধা ভোগ করেছিল, তাদের একটি অংশ এখন নির্বাচন নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এরা আসলে সেই ফ্যাসিস্ট সরকারেরই পেইড এজেন্ট, যারা জনগণের রায়কে ভয় পায়। কিন্তু এদের কথায় কিছুই হবে না—দেশ তার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার পথেই এগিয়ে যাবে।”

নেত্রকোনার প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় প্রেস সচিব নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমান উপদেষ্টা সরকার শুরু থেকেই স্পষ্টভাবে বলেছে—তারা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই সব কার্যক্রম চলছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির শুরুতেই ভোট হবে।”

প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরিদর্শনের কাজ প্রায় শেষ করেছে। তিনি বলেন, “এখন মূল ফোকাস হচ্ছে নির্বাচনী মাঠের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। যাতে ভোটাররা কোনো ভয় বা বাধা ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।”

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, “দেশে এখন স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনমুখী হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা সব দরজা খোলা রেখেছি। যে কেউ সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে থেকে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন।”

তিনি বিরোধী দলের আন্দোলন ও বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, “গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, সমালোচনা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে বিভ্রান্তি ছড়ানো বা অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো প্রচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। জনগণ এখন সচেতন, তারা জানে কারা উন্নয়ন চায় আর কারা বিশৃঙ্খলা।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। তারা নির্বাচন ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা, প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ভোট আয়োজনের বিষয়েও মতামত দেন।

প্রেস সচিব বলেন, “আমরা চাই, আগামীর নির্বাচন হোক প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ। ভোটার শনাক্তকরণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, ফল ঘোষণায় দ্রুততা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।”

মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা পরিষদ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ—দেশে কোনোভাবেই সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে না। নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে, সরকার পরিবর্তন হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।”

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

তিনি আরও যোগ করেন, “জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় উপদেষ্টা সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নেই আমরা কাজ করছি। কোনো গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির চাপ নয়—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংবিধান ও আইনি কাঠামোর ভিত্তিতেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”

প্রেস সচিবের এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলমান গুঞ্জনের অবসান ঘটল। তার এই ঘোষণায় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে নতুন করে নির্বাচনী উচ্ছ্বাস ও আগ্রহ দেখা দিয়েছে। নেত্রকোনার সভায় অংশ নেওয়া স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের পরিষ্কার ঘোষণা জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সভা শেষে প্রেস সচিব জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নির্বাচনপূর্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ আর কোনো সহিংসতা চায় না। তারা চায় ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিতে। তাই সবার দায়িত্ব—এ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সফল করা।”

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের নির্বাচনের দিকেই তাকিয়ে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা, প্রার্থিতা যাচাই, প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ—সব কিছুই এখন সময়ের অপেক্ষা। প্রেস সচিবের ঘোষণার পর নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার পরিবর্তে এখন শুরু হয়েছে প্রস্তুতির বাস্তব পর্ব।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও জনগণের ভোটের অধিকার সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির প্রতিধ্বনি যেন আবারও শোনা গেল নেত্রকোনার এই সভায়। প্রেস সচিবের কণ্ঠে উচ্চারিত হলো এক দৃঢ় বার্তা—
“ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের পথেই।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত