মা-ছেলে চরিত্রে বরুণ-মৌনি, নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ২ বার
মা-ছেলে চরিত্রে বরুণ-মৌনি, নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড়

প্রকাশ: ২৫ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউড পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানের নতুন চলচ্চিত্র ‘হ্যায় জাওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ মুক্তির আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটির গল্প, কাস্টিং এবং বিশেষ করে বরুণ ধাওয়ান ও মৌনি রায়ের অনস্ক্রিন সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সিনেমাটিতে বরুণ ধাওয়ানের বিপরীতে মৃণাল ঠাকুর ও পূজা হেগড়ে অভিনয় করলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বরুণের ‘মায়ের চরিত্রে’ মৌনি রায়ের উপস্থিতি।

ট্রেলারে দেখা যায়, ৩৯ বছর বয়সী অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান একটি হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতিতে তার চরিত্রের জন্য “নকল মা” খুঁজে বের করার কথা বলেন। এরপরই পর্দায় ৪০ বছর বয়সী অভিনেত্রী মৌনি রায়কে এক চমকপ্রদ ও গ্ল্যামারাস অবতারে হাজির করা হয়। বয়সে প্রায় সমান দুই তারকার এমন মা-ছেলের সম্পর্ককে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে বিস্ময়, কৌতূহল এবং সমালোচনা—সবই একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

ডেভিড ধাওয়ানের দীর্ঘদিনের কমেডি ঘরানার ধারাবাহিকতায় নির্মিত এই ছবিটি মূলত হালকা-ফুলকা বিনোদনমূলক কাহিনি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, আধুনিক দর্শকের রুচির সঙ্গে এই ধরনের পুরোনো ধাঁচের কমেডি কতটা মানানসই। অনেকেই মনে করছেন, কাস্টিংয়ের এই সিদ্ধান্ত দর্শকদের বাস্তবতার অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ট্রেলারের একটি দৃশ্যে বরুণ ধাওয়ানের চরিত্রকে তার এক বন্ধুর কাছে বলতেও শোনা যায়, সে চায় “নিরূপা রায়ের মতো” একজন মা, যিনি বলিউডে একসময় আইকনিক মাতৃচরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। সেই সংলাপের পরই মৌনি রায়কে নাটকীয়ভাবে পর্দায় হাজির করা হয়, যা অনেক দর্শকের কাছে হাস্যরসের বদলে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে এই দৃশ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারী সিনেমাটির নির্মাতাদের উদ্দেশে তীব্র সমালোচনা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, বয়সের বাস্তবতা উপেক্ষা করে এই ধরনের চরিত্রায়ন এখন আর গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি পুরোনো ধাঁচের বলিউড কমেডির পুনরাবৃত্তি মাত্র। আরেকজন লেখেন, এটি কমেডির নামে এমন কন্টেন্ট, যা আধুনিক দর্শকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। কেউ কেউ এমন কনটেন্টকে “পুরোনো মানসিকতার ডিজিটাল পুনরাবৃত্তি” বলেও উল্লেখ করেছেন।

তবে সমালোচনার পাশাপাশি কিছু দর্শক আবার বিষয়টিকে হালকা মেজাজের কমেডি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ডেভিড ধাওয়ানের সিনেমাগুলো সবসময়ই বাস্তবতার বাইরে গিয়ে অতিরঞ্জিত হাস্যরস তৈরি করে, তাই এখানে যুক্তি খোঁজার প্রয়োজন নেই। তারা মনে করছেন, সিনেমাটি পুরোপুরি ফিকশন ও বিনোদনের উদ্দেশ্যেই নির্মিত।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা বলছেন, বলিউডে কমেডি ঘরানার চলচ্চিত্রে অতিরঞ্জিত পরিস্থিতি নতুন কিছু নয়। অতীতে বহু সিনেমাতেই বয়স, সম্পর্ক বা বাস্তবতার সীমা অতিক্রম করে হাস্যরস তৈরি করা হয়েছে। তবে ডিজিটাল যুগে দর্শক এখন অনেক বেশি সচেতন এবং সংবেদনশীল হওয়ায় এসব বিষয় দ্রুত বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে যেকোনো ট্রেলার বা দৃশ্য মুহূর্তেই বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে মৌনি রায়ের অনস্ক্রিন উপস্থিতিও আলোচনার বাইরে থাকেনি। টেলিভিশন থেকে বলিউডে সফলভাবে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী সাধারণত গ্ল্যামারাস ও শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। কিন্তু এবার তাকে ‘মায়ের’ ভূমিকায় দেখা যাওয়ায় দর্শকদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই ধরনের চরিত্র নির্বাচন তার ইমেজের সঙ্গে কতটা মানানসই, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বরুণ ধাওয়ান দীর্ঘদিন ধরেই কমেডি ও রোমান্টিক ঘরানার সিনেমায় কাজ করছেন এবং তরুণ দর্শকদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে তার নতুন এই সিনেমাটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক তার ক্যারিয়ারে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনায় মেতেছেন অনেকে। একইভাবে পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান, যিনি বলিউডের পুরোনো কমেডি ধারার অন্যতম পরিচিত নাম, তার এই সিনেমা নিয়ে সমালোচনা নতুন করে বলিউডের কমেডি ঘরানার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

সব মিলিয়ে ‘হ্যায় জাওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে গেছে। সমালোচনা, কৌতূহল এবং সমর্থনের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় সিনেমাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, মুক্তির পর এই বিতর্ক সিনেমাটিকে বক্স অফিসে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলে কিনা, নাকি সমালোচনাই বড় হয়ে দাঁড়ায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত