জনগণের শক্তিই দেশের পরিবর্তনের মূল চালিকা: নাহিদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৬ বার
জনগণের শক্তিই দেশের পরিবর্তনের মূল চালিকা: নাহিদ

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে। পরিবর্তন ছাড়া দেশে কোনো অবকাঠামোই কার্যকর নয়, এমনকি অভ্যুত্থান, নির্বাচন কিংবা ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়াও ব্যর্থ হতে পারে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তরুণরা পরিবর্তনের অপ্রতিরোধ্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে চাইছে। যদি প্রয়োজন হয়, তারা আবারও রাস্তায় নামবে। ফ্যাসিবাদী কাঠামো এখনো সমাজে প্রোথিত রয়েছে, যার কারণে ঐকমত্য প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও সবাই একমত হতে পারছে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ব্যক্তি ও সমাজের চিন্তার পরিবর্তন ছাড়া ফ্যাসিবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-শিক্ষকরা একত্রিত হয়েছেন। এই মেলবন্ধন দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইকে শক্তিশালী করছে। তাই শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বাংলাদেশের মানুষকে মনে করিয়ে দেন যে, পরিবর্তন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসবে না, বরং তা একত্রিত প্রয়াস ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে সম্ভব। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করে চলেছি। তাদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইতে সমাজের প্রত্যেক মানুষকে অংশ নিতে হবে।”

উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা জানান, শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তারা পরিবর্তনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চাইছে। নাহিদ ইসলামও এই আশা প্রকাশ করেন যে, তরুণ ও শিক্ষকেরা একসঙ্গে কাজ করলে দেশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ ও দমনাত্মক কাঠামো ভেঙে নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ এখন নতুন আশা ও উদ্যম নিয়ে আন্দোলনের পথে এগোচ্ছে। পরিবর্তনের ছোঁয়া সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি বিশেষভাবে শিক্ষকদের ভূমিকাকে সম্মান জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সাহসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।” নাহিদ ইসলাম আশ্বাস দেন যে, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে নাগরিক পার্টি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবিচল থাকবে।

উক্ত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে বিশেষভাবে উদ্দেশ্য করে বলেন, তরুণদের শক্তি ও উদ্যম পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই তরুণরা যেন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে দেশের উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে।

এই প্রেক্ষাপটে নাহিদ ইসলাম দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “পরিবর্তন ছাড়া আমরা কখনও সমাজে সত্যিকার অর্থে ন্যায় ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে পারব না। গণতন্ত্রের শক্তি সমাজের সচেতন নাগরিক ও শিক্ষকদের একত্রিত প্রয়াসে নিহিত।”

বাংলা একাডেমির অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তারা মনে করেন, তরুণ ও শিক্ষকেরা একত্রিত হয়ে দেশকে আরও উন্নত, ন্যায়সঙ্গত এবং গণতান্ত্রিক সমাজে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হবে।

এই প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম একাধিকবার জনগণকে পরিবর্তনের জন্য একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই স্থায়ী উন্নয়ন ও শান্তি অর্জন করতে পারবে না।

সংবাদটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসের তথ্য যাচাই করে, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি পাঠকের কাছে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সহায়ক।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্য দেশের যুবসমাজ এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে পরিবর্তনের ধারণা জাগ্রত করতে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণে উদ্দীপনা যোগাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত