ইসরায়েলি সেনার গুলিতে পশ্চিম তীরে দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারালেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২ বার
দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে আরও দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব জেরুজালেম ও রামাল্লাহর মধ্যবর্তী আল-জুদেইরা গ্রামের কাছে এই ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, নিহত দুজন সেনাদের লক্ষ্য করে মলোটভ ককটেল নিক্ষেপের চেষ্টা করেছিল। পাল্টা হামলায় গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে জানায় সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ঘটনাটির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, ফুটেজটি গত রাতের ঘটনারই অংশ, যেখানে দেখা যায় সেনারা টহল দেওয়ার সময় রাস্তায় কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে দৌড়াতে দেখা যায়। ভিডিওর শেষে গুলির শব্দ শোনা যায়, এরপরই তারা নিহত হয় বলে দাবি করে সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি সেনাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো সদস্য আহত হয়নি। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় সূত্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতভর ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলে এবং সকালে গ্রামজুড়ে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করে। এ ঘটনাকে পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনা ও সহিংসতার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেনারা “সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের” কথা বললেও, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি—এগুলো ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্বিচার হত্যার শামিল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দখলকৃত পশ্চিম তীরে এখন পর্যন্ত শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই ছিলেন কিশোর। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনার হামলায় গাজা উপত্যকায় প্রাণহানি ঘটেছে হাজারো মানুষের। ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী পশ্চিম তীরে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। আল-জুদেইরার ঘটনাও সেই ধারাবাহিক সহিংসতারই অংশ।” তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের সামিল এবং জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকার বলেছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে অভিযান চালাচ্ছে এবং “যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের” জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে। এদিকে পশ্চিম তীরজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার ভোরে রামাল্লাহ, হেবরন এবং নাবলুসে কয়েকটি স্থানে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নিহত দুজনকে শুক্রবার দুপুরে জানাজা শেষে দাফন করা হবে, যেখানে অংশ নেবে শত শত ফিলিস্তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিম তীরে এই ধারাবাহিক সহিংসতা কেবল আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়াবে। গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রভাব এখন পশ্চিম তীরেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাতের নতুন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলার ঘটনা শুধু প্রাণহানি নয়, বরং দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ক্ষোভ আরও উসকে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আল-জুদেইরার এই ঘটনা সেই উত্তেজনারই প্রতিফলন—যেখানে অস্ত্রের গর্জনের নিচে হারিয়ে যাচ্ছে মানবতার আহ্বান।

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে আরও দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব জেরুজালেম ও রামাল্লাহর মধ্যবর্তী আল-জুদেইরা গ্রামের কাছে এই ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, নিহত দুজন সেনাদের লক্ষ্য করে মলোটভ ককটেল নিক্ষেপের চেষ্টা করেছিল। পাল্টা হামলায় গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে জানায় সেনাবাহিনী।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ঘটনাটির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, ফুটেজটি গত রাতের ঘটনারই অংশ, যেখানে দেখা যায় সেনারা টহল দেওয়ার সময় রাস্তায় কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে দৌড়াতে দেখা যায়। ভিডিওর শেষে গুলির শব্দ শোনা যায়, এরপরই তারা নিহত হয় বলে দাবি করে সেনাবাহিনী।

ইসরায়েলি সেনাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো সদস্য আহত হয়নি। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় সূত্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতভর ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলে এবং সকালে গ্রামজুড়ে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করে।

এ ঘটনাকে পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনা ও সহিংসতার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেনারা “সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের” কথা বললেও, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি—এগুলো ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্বিচার হত্যার শামিল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দখলকৃত পশ্চিম তীরে এখন পর্যন্ত শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই ছিলেন কিশোর। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনার হামলায় গাজা উপত্যকায় প্রাণহানি ঘটেছে হাজারো মানুষের।

ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী পশ্চিম তীরে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। আল-জুদেইরার ঘটনাও সেই ধারাবাহিক সহিংসতারই অংশ।” তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের সামিল এবং জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকার বলেছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে অভিযান চালাচ্ছে এবং “যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের” জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে।

এদিকে পশ্চিম তীরজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার ভোরে রামাল্লাহ, হেবরন এবং নাবলুসে কয়েকটি স্থানে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নিহত দুজনকে শুক্রবার দুপুরে জানাজা শেষে দাফন করা হবে, যেখানে অংশ নেবে শত শত ফিলিস্তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিম তীরে এই ধারাবাহিক সহিংসতা কেবল আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়াবে। গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রভাব এখন পশ্চিম তীরেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাতের নতুন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলার ঘটনা শুধু প্রাণহানি নয়, বরং দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ক্ষোভ আরও উসকে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আল-জুদেইরার এই ঘটনা সেই উত্তেজনারই প্রতিফলন—যেখানে অস্ত্রের গর্জনের নিচে হারিয়ে যাচ্ছে মানবতার আহ্বান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত