গাজার ১৬,৫০০ জনকে তাত্ক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন: WHO

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪ বার
গাজার ১৬,৫০০ জনকে তাত্ক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন: WHO

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

গাজার ক্রমবর্ধমান সংকটের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, উপত্যকায় ১৬,৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক বর্তমানে তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে রয়েছে। সংস্থার মহাপরিচালক ডা. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, যেন তারা অবিলম্বে এসব রোগীকে চিকিৎসার জন্য গ্রহণ করে এবং জরুরি সাহায্য প্রদান নিশ্চিত করে।

ডা. টেড্রোস বলেন, “আমরা আরও দেশকে আহ্বান জানাচ্ছি গাজা থেকে রোগীদের গ্রহণ করতে। বর্তমানে ১৬,৫০০-এরও বেশি মানুষের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, যা স্থানীয়ভাবে গাজার সীমিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।” তিনি উল্লেখ করেন, এই রোগীদের নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য সড়ক ও নেয়ার পথ—বিশেষ করে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের দিকে যেসব রুট রয়েছে—খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও জানান, ডব্লিউএইচও সম্প্রতি গাজা থেকে ১৯ জন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে এবং তাদের সঙ্গে থাকা ৯৩ জন সহযোগীকে ইতালিতে স্থানান্তর করেছে। এই উদ্যোগে সহায়তার জন্য ইতালি সরকারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ডা. টেড্রোসের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধুমাত্র একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ, কিন্তু এমন পদক্ষেপগুলো জরুরি অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। চলমান সহিংসতা, অবকাঠামোর ধ্বংস এবং চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করেছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে, যা রোগীদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি যদি দ্রুত শিথিল না হয়, তবে সংক্রমণ ও অন্যান্য চিকিৎসা সমস্যার প্রাদুর্ভাবও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

ডব্লিউএইচও-র মতে, গাজার হাসপাতালে সঙ্কটকালীন পরিষেবাগুলির ঘাটতি বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং গর্ভবতী মহিলাদের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, বহু রোগী দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি করছে।

ডা. টেড্রোস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছেন যে, ত্রাণ ও চিকিৎসা সরবরাহে সহযোগিতা প্রদান না করলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে। তিনি বলেন, “মানবিক সহায়তা ছাড়া গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থার ধ্বংস অব্যাহত থাকবে। রোগীদের জীবন রক্ষা করতে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব জরুরি।”

উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘর্ষের কারণে স্থায়ী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি ও ওষুধ সরবরাহে অভাব এবং হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোর ক্ষয় স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ডব্লিউএইচও বলেছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং স্থানান্তরের মাধ্যমে রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত না করলে, ভবিষ্যতে মৃত্যু ও রোগব্যাধির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

ডা. টেড্রোসের আহ্বান বিশেষভাবে গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতার প্রেক্ষিতে চিকিৎসা ও মানবিক সাহায্যের তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সংক্রমণ, আহত ও অসুস্থ রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা পায় এবং পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। গাজার ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন এক জরুরি মানবিক অভ্যর্থনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত