প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের এক আদালত ২৮ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষিকা অ্যাবি জর্নারের পক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলার (১ কোটি) ক্ষতিপূরণের আদেশ দিয়েছে। জর্নারের দাবি অনুযায়ী, তিনি বহুবার সতর্ক করেছিলেন যে তার শ্রেণিকক্ষে একজন ছয় বছরের ছাত্রের কাছে বন্দুক রয়েছে, কিন্তু স্কুল প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেনি। আদালত মঙ্গলবার এই ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন।
জানুয়ারি ২০২৩ সালে নিউপোর্ট নিউজ শহরের রিচনেক এলিমেন্টারি স্কুলে ঘটেছে এই ঘটনা। শ্রেণিকক্ষে বসার সময় জর্নারের ওপর ছাত্রটি গুলি চালায়। গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হয়। এই সময়ে তার ছয়টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। এখনও তিনি পুরোপুরি তার বাঁ হাত ব্যবহার করতে পারছেন না। গুলির অবশিষ্টাংশ তার শরীরে রয়েছে, যা তার দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে।
জর্নারের আইনজীবী ডায়ান টসকানো বলেন, “স্কুলে যা ঘটেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এই রায়ের মাধ্যমে বার্তা দেয়া হয়েছে যে স্কুলে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে এবং কেউ এই ধরনের অবহেলা করতে পারবে না।” তারা আরও দাবি করেন, স্কুলের সাবেক সহপ্রধান এবোনি পার্কার কয় ঘণ্টা আগে সতর্কবার্তার পরও কোনো ব্যবস্থা নেননি। জুরির কাছে তারা প্রশ্ন তোলেন, ‘কে ভাবতে পারেন, ছয় বছরের একটি শিশু স্কুলে বন্দুক নিয়ে শিক্ষককে গুলি চালাবে?’
ঘটনায় গুলি চালানো ছাত্রের মা চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন, তবে শিশুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। শিশুটি জানিয়েছে যে সে তার মায়ের বন্দুক পেয়েছিল ড্রয়ারের ওপরে থেকে এবং তারপর তা স্কুলে নিজের ব্যাগে রেখেছিল। নিউটাউন অ্যাকশন অ্যালায়েন্সের মতো প্রতিষ্ঠান এই ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন যে, শিশুদের হাতে অনুমোদনহীন বন্দুক পৌঁছানো প্রতিরোধে বাড়িতে বন্দুক রাখার নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো প্রয়োজন।
জর্নার এখন আর স্কুলে শিক্ষকতা করছেন না এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষকতার পেশায় ফিরে আসবেন না। তিনি বর্তমানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসমেটোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের হাতে অননুমোদিত বন্দুক পৌঁছানোর ঘটনা সাধারণ হলেও ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের গুলির ঘটনা অত্যন্ত বিরল। গবেষক ডেভিড রাইডম্যানের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা মাত্র ১৫টি ঘটেছে।
এ মামলার রায় শিশুর হাতে বন্দুক পৌঁছানো এবং স্কুল প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে গভীর বার্তা দিচ্ছে। এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার প্রয়োজনীয়তার দিকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।