উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২ বার
উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

উত্তর কোরিয়া শুক্রবার তার পূর্ব উপকূলে সমুদ্রে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক মনিটরিং ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মতে, এটি গত দুই সপ্তাহের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের অংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, চীন সীমান্তবর্তী দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়, যা প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সংস্থাগুলো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি আগে থেকেই শনাক্ত করে এবং এর গতিপথ অনুসরণ করে। এই তথ্য জাপানের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে। জাপান সরকারও নিশ্চিত করেছে, সম্ভবত এটি একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা তাদের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে কোনো বিপর্যয় ঘটেনি।

উত্তর কোরিয়ার এই আচরণকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণগুলো কিম জং উনের সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে। এর প্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোট আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সফরে গিয়ে আবারও কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হয়নি, তবে ট্রাম্প বারবার বলেন যে প্রয়োজন হলে তিনি আবারও কিমের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

এর আগে ২০১৯ সালে ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্ট মেয়াদকালে দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সীমান্তে প্যানমুনজম শান্তি গ্রামে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। কিম তখন বলেছিলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে চাপ না দেয়, তবু তিনি আলোচনায় বসতে আপত্তি করবেন না।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে শত্রুতামূলক আচরণ করছে এবং তারা এর জবাব দেবে। তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় জানান, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান বজায় রাখবে এবং নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কোরিয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যার মধ্যে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্র থেকে স্থলে আঘাত হানতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সফরের পূর্বেই করা হয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপগুলো কিম জং উনের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলের অংশ। তারা আশা করেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করবে এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরালো নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।

উত্তর কোরিয়ার প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যালিস্টিক উৎক্ষেপণগুলো কেবল সামরিক প্রদর্শনী নয়, এগুলো কিমের প্রশাসনিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত। পাশাপাশি, এই ধরনের পদক্ষেপ কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে জটিল করে তুলছে।

উত্তর কোরিয়ার এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো আঞ্চলিক পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করেছে। কিম জং উনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চক্রে নতুন আলোচনার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত