আরিফিন শুভ ব্রেকথ্রু পথচলা: শুটিং-অ্যাসিস্টেন্ট থেকে বলিউড সিরিজের মুখ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৩ বার
আরিফিন শুভ ব্রেকথ্রু পথচলা: শুটিং-অ্যাসিস্টেন্ট থেকে বলিউড সিরিজের মুখ

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকাই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক আরিফিন শুভ সম্প্রতি এক মোটিভেশনাল ইভেন্টে নিজে তুলে ধরেছেন একজন অভিনয়শিল্পীর পথটা কতটা কঠিন হতে পারে—কিন্তু নির্ভীক অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেটা জয় করা সম্ভব। ইভেন্টে তিনি বললেন, “আমি শুটিংয়ে আগে পরিচালক-শিল্পীদের আদেশ পালনে কাজ করতাম”—এটি তাঁর ক্যারিয়ারের সংগ্রামের এক অজানা অধ্যায়, যা আজ তার সফলতা ও পরিচিতি গড়ার মূল ঘাড় ছিল।

তার ব্যতিক্রমী কণ্ঠে উঠে এল শুরুর দিনগুলোর হালকা মেজাজে হলেও তা বেশ তীব্র ছিল। শুভ জানান, মিডিয়ায় প্রবেশ করার পর প্রথম দিকে তিনি কাজ পেয়েছিলেন এমন-ও কিছু শুটিংয়ের কাজ, যেখানে অভিনেতা হওয়ার চেয়েও ‘দায়ী’ ছিলেন—শুটিংয়ের পরিবেশ তৈরি করা, পরিচালক ও শিল্পীদের সহায়তা করা, আদেশ মেনে চলা। এই সময়ের সংগ্রাম, অপেক্ষা ও সংশয়ে ভরা ছিল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “ওই সময় আমি সম্ভবত ভাবিনি একদিন নিজের নামটা বড় হাতে লেখা হবে। তবে আমি হাঁটতে থাকলাম।”

শুভের ক্যারিয়ারে আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়েছে, তার পেছনে রয়েছে একটুকরো ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস। কলকাতার নির্মাতা সৌমিক সেনের সঙ্গে একটি সিরিজে কাজ করছেন তিনি—বৈশ্বিক পরিসরে বাংলা-সিনেমার এক দশা বদলের ইঙ্গিত। কিন্তু আজকের সেই সুযোগ তিনি পেয়েছেন প্রথমটিতে হাত দিয়ে, হাতে-হাতে কাজ করে, প্রথম শুটিং সাপোর্ট-সেট-ম্যান হওয়ার মধ্য দিয়ে। এই পথচলার কথা ইভেন্টে ভিজ্যুয়ালি ও কথায় তুলে ধরলেন দর্শকদের সামনে।

“দান সামদানির ইভেন্টে আমি বলেছিলাম, যে জায়গায় আজ আছি, সেখানে একদম সহজে আসিনি,” তিনি বলেন। “শুটিং সেটে দাঁড়িয়ে কখনো কখনো মনে হতো—আদেশ পালনের কাজ কত ভারী! পর্দার পেছনের সেই নিরক্ষর ভূমিকাটাও আমার জন্য ছিল বড় শিক্ষা।” এই আত্মবিকাশ-গল্প শেষে তিনি দর্শককে জানিয়েছিলেন—“আপনারা যেমন কাজ করছেন, ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ঊর্ধ্বমুখী হোন; কখনো নিজের পেছনে ফিরে তাকাবেন না।”

এটি শুধু একটি তারকা-সফলতা গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপরিসরে একজন সাধারণ-নিয়ে ‘অভিনেতা’ হয়ে ওঠার প্রেরণা। শুভ বললেন, “আমি যখন আদেশ গ্রহণকারী অবস্থায় ছিলাম—তিনি নির্দেশ দিচ্ছেন, আমি করছি—সে সময় আমি বলছিলাম, ‘আমি তো অভিনেতা হবেই’। সেই বিশ্বাস এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।” তাঁর সূচনা-কালীন দিনগুলোতে অভিজ্ঞতা জমেছিল—ক্যামেরার সামনে নয়, বরং ক্যামেরার পেছনের দিকেই, যেখানে খাঁটি পরিশ্রম, অপেক্ষা ও ত্যাগ ছিল।

নতুন সিরিজের কাজের প্রসঙ্গে শুভ জানালেন, কলকাতার নির্মাতা সৌমিক সেনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়েই তিনি বুঝেছেন—বড় পর্দা বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার মানসিকতা ও প্রস্তুতি অনেক বড়। “সিরিজের শুটিংয়ে আমি অনেক বেশি সময় ধরে থাকছি, শুটিংয়ের প্রতিটি দৃশ্যের আগে ঠিক করছি নিজেকে প্রস্তুত করব—নতুন পরিবেশ, নতুন কাজ, নতুন কর্মপদ্ধতি,” তিনি বলেন। এই একোকথা থেকে বোঝা যায়, তিনি এখন শুধু ‘ঢাকাই সিনেমার নায়ক’ নন—বিকাশমান এক আন্তর্জাতিক অভিনেতার প্রতিচ্ছবি।

এই গল্পটি কতটা প্রাসঙ্গিক? আজ-কাল যেখানে অভিনেতাদের বিচিত্র ও আরামদায়ক জীবনধারা সাধারণভাবে আলোচিত হয়, সেখানে শুভর আত্মজীবনী-ভিত্তিক এই আলোচনায় উঠে আসে এক বাস্তব পৃথিবী—শুরুর দিনের কাজ, অপেক্ষা, সম্ভাব্যতা ও সংগ্রামের নির্যাস। এক-সময় আদেশ পালনের সেই সময় এখন পরিণত হয়েছে নিজের ছবিতে অভিনয়ের সেই সময়। তিনি বলছেন, “সেটিং বদলায়নি—for me the setting was there, কিন্তু দায়িত্ব পালনের মতো মনোভাব বদলায়নি।”

অভিনেতা জীবনের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে—চলচ্চিত্র-উৎপাদন, প্রচার, অডিয়েন্স-রেসপন্স, সময় সূচি, করণীয় দায়িত্ব ইত্যাদি। শুভ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমাদের শিল্পে সময়-সূচি কখনো মেনে চলে না, সেটে রাত জাগা, দিনান্তে শেষ হওয়া কাজ হয়। সেই রিয়ালিটি আমার শুরু থেকেই ছিল। আমি এখন শুধু ক্যামেরার সামনে ভালো দেখাতে চাই না, দৃশ্যের আত্মা দিয়ে খেলতে চাই,” তিনি বলেন।

আরিফিন শুভর এই অভিজ্ঞতা অনেক-কিছু শিখিয়ে দেয়—ভালো সুযোগ পাওয়া সবসময় সহজ নয়, কখনো কখনো শুরু করতে হয় «অ্যাসিস্ট্যান্ট» বা «ব্যাকআপ» রূপে, যেখানে আদেশ মানা, সহযোগিতা করা ও ধৈর্য ধরাই প্রথম ধাপ। তাঁর যাত্রা দেখিয়ে দেয়, যদি কাজের প্রতি সৎ মনোভাব ও ধৈর্য থাকে, তাহলে সেই মনোবলই পর্দায় পরিবর্তনের সুযোগ এনে দিতে পারে।

এই মুহূর্তে পুরো দৃশ্যমান হচ্ছে—শুভ শুধু অভিনেতা নন, তিনি একসময় ছিলেন আদেশ পালনকারী; সেই ভিতকে তিনি আজ কাজে লাগিয়েছেন সেটা নিশ্চিত করার জন্য। এই উপলব্ধি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দিচ্ছে: যেখান থেকে যেকোনো সক্ষমতা শুরু হয়, সেখান থেকেই যাত্রা ছুটতে পারে একদিন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। এবং আরিফিন শুভর গল্প তা ব্যক্ত করছে স্পষ্টভাবে।

এই সাক্ষাৎ ও ইভেন্ট-সংলাপের উৎসাহে আজ বাংলাদেশের তরুণ অভিনেতা ও শিল্পীরা এক বার ভাবেন—«আমি এখনও যে দায়িত্ব পালন করছি, সেটা হয়তো আগামী দিনের বড় কাজের ভিত্তি।» আরিফিন শুভ নিজেই সেই উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন পাঠকদের সামনে এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে আনছে অভিনয়ের পেছনের কঠোর পরিশ্রম, শুরু-দিনের ছোট্ট পদক্ষেপ ও ধৈর্যের মূল্য—যা আজ সফলতার ডিজাইনে পরিনত হয়েছে। তিনি বলছেন, “আমি শুটিংয়ে আদেশ পালনের কাজ করতাম”—এ কথা মনে করিয়ে দেয়, কেউই সহজে শুরু পায় না, কিন্তু ভালোবাসা, মনোযোগ ও সময় দিয়ে যাত্রা গড়তে হয়।

এই গল্প শুধু বিনোদন বা তারকার জীবনের সংক্ষিপ্ত রূপ নয়; এটি এক জীবনের সত্যিকারের নকশা—যেখানে প্রত্যেক আদেশ পালনের মুহূর্ত, প্রত্যেক শুটিংয়ের দিন এবং প্রত্যেক প্রতীক্ষার পশ্চাতে লুকিয়ে আছে এক বড় স্বপ্ন, যা আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। আরিফিন শুভর মতো একজন যে সবে শুরু করেছিলেন নীরবভাবে—আজ বলছেন, “আমার ভিত্তি ছিল আদেশ পালনের কাজ”—সেই কথা নিজেই যেন বলছে: আজকের ছেলে-মেয়েরা, অপেক্ষা করো না, কাজ করো, ধৈর্য ধরো, নিজের জায়গা তৈরি করো আমাদের চলচ্চিত্র-পরিমণ্ডলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত