জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে স্পিকার-ডেপুটির শ্রদ্ধা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৫ বার
জিয়া খালেদা সমাধিতে স্পিকারের শ্রদ্ধা

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁদের এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদের দায়িত্ব পালনের সূচনালগ্নে তাঁরা দুই জাতীয় নেতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সমাধিস্থলে তখন এক গম্ভীর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই দুই ব্যক্তিত্বকে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজকের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সংগ্রাম ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।

স্পিকার বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর নেতৃত্ব দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। স্পিকার বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্পিকারের বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও উঠে আসে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রেখে তাদের মতামত প্রকাশ করেছে এবং জনগণের এই আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনের ফলাফলে। তাঁর মতে, জনগণের এই রায় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

স্পিকার আরও বলেন, সংসদকে কার্যকর ও সবার জন্য সমান সুযোগের জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি এবং ডেপুটি স্পিকার দলীয় পদ থেকে সরে এসে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের ভেতরে সরকার ও বিরোধী দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে, যাতে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হয়।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও এ সময় বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের গণতন্ত্রের প্রধান প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও কার্যকর রাখতে সব ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা হবে। তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রম যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।

সমাধিস্থলে আয়োজিত এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠান চলাকালে উপস্থিত অনেকেই দুই নেতার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। তাঁদের রাজনৈতিক জীবন দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের এই শ্রদ্ধা নিবেদন একটি প্রতীকী বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে তারা দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি নতুন দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় সংসদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো পরিচালিত হয়। তাই সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সংসদের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক করতে হলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তাঁদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে এই শ্রদ্ধা নিবেদন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com