প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সদরে সংলগ্ন দক্ষিণ স্টেশনের বাণিজ্যিক এলাকা ‘একরাম মার্কেট’-এ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু ঘটে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন ইউনিট তৎপর হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে।
স্থানীয়দের বর্ণনায়, বিকেলে হঠাৎ মার্কেটের একটি দোকানে আগুন লাগে। গ্যাস সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে মার্কেটে অবস্থিত বেশ কয়েকটি দোকান এবং স্থাপনায়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের দুইটি ইউনিট ক্রিয়া শুরু করে। পরে উখিয়া, টেকনাফ ও আশপাশের স্টেশন থেকে আরও আটটি ইউনিট যুক্ত হয়, মোট দশটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন জানান, “বিকেলে উখিয়া সদর স্টেশনের একরাম মার্কেটে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আমরা এখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি, কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।”
আগুনের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাজারের ব্যবসা–কারবার পুরোপুরি থমকে যায়। আশপাশের দোকান–ঘর থেকে মানুষ দ্রুত বেরিয়ে আসে। আতঙ্কে ছুটে আসে স্থানীয় ও প্রভাবিত ব্যবসায়ীরাও। কেউ কেউ দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হন। তাদের মধ্যে একজন—মোহাম্মদ আলী নামের ব্যবসায়ী—প্রচণ্ড দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা হাসপাতালে মারা যান।
আঞ্চলিক সংবাদ অনুযায়ী, শুধু প্রথম উপস্থিত দুইটি ইউনিট থাকলেও আগুনের ভয়াবহতা এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরবর্তীতে মোট দশটি ইউনিট কাজ করতে এসেছে। বর্তমানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; তবে পরিস্থিতি আপাতত স্থিত বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলেন, আগুনের কারণে নষ্ট হয়েছে বেশ কিছু দোকান–ঘর ও ব্যবসায়িক স্থাপনা। আর আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, একরাম মার্কেট পরিবেশনায় ছোট–বড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। মোবাইল দোকান, কসমেটিক্স, মুদি ও খাদ্য সামগ্রী বিক্রির দোকান, হার্ডওয়্যার ও বৈদ্যুতিক সামগ্রী বিক্রেতা–সহ নানা দোকান এই মার্কেটে ছিল। আগুন এমন সময় শুরু হয়, যখন বিকেলের বানিজ্যিক সময় বাজার ক্রমবহাপ্ত ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় একাধিক দোকান থেকে মালামাল উদ্ধার করার আগেই আগুন শ্লেষ হয়ে যায়।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দগ্ধ হয়ে মৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর আত্মার শান্তি কামনায় এবং আহতদের দ্রুত সারে ওঠার জন্য স্থানীয়রা দোয়া করছেন। আহতদের মধ্যে অনেকেই দগ্ধবিন্দু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এই ধরনের আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড প্রতিবারই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন সংকট তৈরি করে। একটি নিরাপদ আগুননিরোধ ব্যবস্থা না থাকলে দ্রুতই বড় ধ্বংসরূপ নিতে পারে। উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ নিয়ম, আগুন বিস্তার রোধে প্রতিবেশী দোকানগুলোর প্রস্তুতি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা পরবর্তী সময়ে আগুন লাগার সঠিক কারণ নির্ধারণ করতে তদন্ত শুরু করবেন বলেও জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি আহত ও নিহতদের পরিবার সাপেক্ষে সহায়তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তির মৃত্যু বা দোকানের ক্ষতির ব্যাপার হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়—এটি এক সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং বাজার–প্রবণ পরিবেশের জন্য এক বড় হুমকি। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন, কখন তারা পুরোপুরি ব্যবসা শুরু করতে পারবে সেই অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
এই প্রেক্ষাপটে বাজার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ত্বরিত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। খোলা বাজারে অগ্নিনির্বাপন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, আগুন লাগার পর দ্রুত সাড়া দেওয়া—এগুলোই এখন জরুরি।
উখিয়াবাসীকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে মানুষ দ্রুত বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে, কিন্তু অনেক সময় দহনশীল বস্তু বা সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে কর্মপরিবেশ ও জনসমাগম এলাকায় আগুননিরোধের জন্য নিয়মিত তদারকি ও প্রস্তুতি রাখা অত্যাবশ্যক।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে থাকছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ ও স্থানীয় মানুষজন—আকস্মিকভাবে দগ্ধদের উদ্ধার ও হাসপাতালে নেওয়ার কাজ করছেন। সামাজিক সংগঠনগুলো আহতদের জন্য রক্তদান কর্মসূচি ও ত্রাণ সামগ্রী প্রদান শুরু করেছে।
প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটছে—বিশেষ করে ব্যবসায়িক এলাকাসহ পুরনো বিল্ডিং বা খোলা বাজারে। এ প্রসঙ্গে, উপযুক্ত প্রস্তুতির অভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বারবার বেড়ে যাচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরাও বলছেন, তারা আগুননিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো পরিকল্পনা বা নির্দেশনা পাননি। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য কার্যকর প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা থাকা জরুরি।
এ ঘটনায় মৃতব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন উখিয়া থানার পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দোকান–ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়তা কার্যক্রম দ্রুত চালু করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রশাসন।
এই খবর সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যমের খবর ও সামাজিক মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী সময়ে কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহত ও নিহতের বিস্তারিত তথ্য জানালে তা ‘একটি বাংলাদেশ অনলাইন’ পরবর্তী আপডেটে প্রকাশ করবে।