প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ছয় বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও জার্মানির ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম মর্যাদার শিরোপা ডিএফবি-পোকাল জিতেছে Bayern Munich। ফাইনালে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ স্টুটগার্টকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মৌসুম শেষ করল বাভারিয়ানরা ঘরোয়া ডাবল জয়ের আনন্দে।
বার্লিনের ঐতিহাসিক Olympiastadion Berlin–এ অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল সতর্ক কৌশলে খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে কোনো দলই বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। মাঝমাঠের লড়াই, বল দখলের প্রতিযোগিতা এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
তবে বিরতির পর ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় বায়ার্ন। ৫৫ মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইংলিশ তারকা Harry Kane। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দিকে টেনে নেয় বায়ার্ন।
এরপর থেকে স্টুটগার্ট কিছুটা চাপে পড়ে যায় এবং বায়ার্নের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৮০ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন হ্যারি কেইন। লুইস দিয়াজের নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অসাধারণ কার্লিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি, যা ম্যাচের দ্বিতীয় গোল হিসেবে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। যোগ করা সময়ে স্টুটগার্টের ডিফেন্ডার অ্যাঞ্জেলো স্টিলারের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। স্পটকিকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হ্যারি কেইন। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক।
এই হ্যাটট্রিক শুধু ম্যাচ জয়ের গল্পই নয়, ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছে। ডিএফবি-পোকাল ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা মাত্র চতুর্থ ফুটবলার এখন হ্যারি কেইন। এর আগে এই বিরল কীর্তি গড়েছিলেন উভে সিলার, রোলান্ড ভোলফার্থ এবং রবার্ট লেভানদোস্কি। ফলে বায়ার্ন ইতিহাসের সোনালি অধ্যায়ে নিজের নামও যুক্ত করলেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।
ম্যাচ শেষে বায়ার্নের কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক কৌশল এবং উইং প্লে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। বিশেষ করে ওলিস ও দিয়াজের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি মৌসুমে হ্যারি কেইনের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে তিনি করেছেন ৬১ গোল, যা ইউরোপিয়ান ফুটবলে অন্যতম সেরা রেকর্ডগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শুধু ডিএফবি-পোকালেই তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ।
এর আগে বুন্দেসলিগা শিরোপা নিশ্চিত করার পর এবার ডিএফবি-পোকাল জিতে মৌসুম শেষ করল বায়ার্ন মিউনিখ। ফলে ঘরোয়া ফুটবলে আবারও নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করল জার্মান জায়ান্ট ক্লাবটি।
সমর্থকদের মতে, এই মৌসুমে বায়ার্নের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতা এবং বড় ম্যাচে কেইনের ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং। দীর্ঘ সময় পর ঘরোয়া ডাবল জয় ক্লাবটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পারফরম্যান্স বায়ার্নের ইউরোপীয় ভবিষ্যতের জন্যও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে আরও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে দলটি।
সব মিলিয়ে, হ্যারি কেইনের হ্যাটট্রিক, বায়ার্নের আধিপত্য এবং ডাবল জয়ের আনন্দ—সবকিছু মিলিয়ে এই ফাইনাল ম্যাচ হয়ে উঠল মৌসুমের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি।