আজ শেষ কর্মদিবস, শুরু ঈদের টানা ছুটি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১২ বার
আজ শেষ কর্মদিবস, শুরু ঈদের টানা ছুটি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আজ রোববার (২৪ মে) সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস। আগামীকাল সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি, যা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। দীর্ঘ এই ছুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয়েছে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি ও ঘরমুখী মানুষের চাপ।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের ঈদে ছুটির এই দীর্ঘ পরিসর নির্ধারণ করা হয়েছে মূলত যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো এবং ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে। এর ফলে টানা এক সপ্তাহ দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

ঈদুল আজহা পালিত হবে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার)। ধর্মীয় এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে মানুষের ব্যাপকভাবে নিজ নিজ গ্রামে ফেরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ছুটির আগের দিন শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অফিস, ব্যাংক ও বিভিন্ন দপ্তরে শেষ মুহূর্তের কাজের চাপ বেড়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নির্ধারিত এই ছুটির মধ্যে মূল ঈদের দিনসহ আগের ও পরের কয়েকটি দিন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করা।

সরকার আগে থেকেই ঈদযাত্রা সহজ করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছে। গত ৭ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, যাতে যাত্রীরা ধাপে ধাপে ঢাকা ছাড়তে পারেন এবং অতিরিক্ত চাপ না পড়ে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায়।

এদিকে দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা ইতোমধ্যেই ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু করেছে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে বাড়ছে যাত্রীদের ভিড়। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী রুটগুলোতে টিকিট সংকট এবং অতিরিক্ত চাপের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই আগেভাগে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করায় গত কয়েকদিন ধরেই যাত্রার চাপ বেড়েছে।

তবে জরুরি পরিষেবাগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগ, ডাক বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু থাকবে। এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বাস্থ্যসেবাও ছুটির বাইরে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল, চিকিৎসক, নার্স ও জরুরি চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনও স্বাভাবিক থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্র বলছে, ঈদের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সড়ক, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে আগেই বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ, অনলাইন লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখা এবং জরুরি ব্যাংকিং সেবা চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটি একদিকে যেমন মানুষের ঈদ উদযাপনকে স্বস্তিদায়ক করবে, অন্যদিকে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে পরিবহন খাতে চাপ বাড়তে পারে। তাই ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে আজকের শেষ কর্মদিবসের পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে এক ধরনের উৎসবমুখর নীরবতা। শহরের কোলাহল কমে গ্রামমুখী মানুষের ঢল নামায় বদলে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর চিত্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত