দুপুরে ৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় শনিবার দুপুরের আগেই দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং অস্থায়ী ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আটটি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে দিনের প্রথম ভাগেই আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সময়ে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই নৌযান চলাচলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে এ ধরনের স্বল্পমেয়াদি ঝড়ো আবহাওয়া দেশের নদীপথে চলাচলকারী নৌযানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। হঠাৎ বাতাসের গতি বেড়ে গেলে ছোট নৌকা, মাছ ধরার ট্রলার এবং যাত্রীবাহী লঞ্চের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে আগাম সতর্কবার্তা মেনে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বৈরী আবহাওয়ায় নদীপথে যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এই সংকেতের অর্থ হলো, নির্ধারিত এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং নৌযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যদিও এটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত নয়, তবুও আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে নৌযান চালকদের সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে বজ্রপাতের ঝুঁকিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী, জলাশয় কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থানকারীদের বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদেরও মাঠে কাজ করার সময় আকাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। অনেক সময় স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রবল দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাত একসঙ্গে দেখা দেয়। ফলে কয়েক ঘণ্টার জন্য জনজীবন, সড়ক ও নৌ যোগাযোগ এবং উপকূলীয় এলাকার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবহাওয়ার এমন পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে কেবল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নতুন পূর্বাভাস বা সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে। তাই বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী যাত্রী, জেলে, ট্রলারচালক এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ আবহাওয়ার তথ্য অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত