ইরান চুক্তি ইস্যুতে ইসরায়েল-সম্পৃক্ত গোষ্ঠীর চাপের অভিযোগ ভ্যান্সের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৫ বার
ইরান চুক্তি ইস্যুতে ইসরায়েল-সম্পৃক্ত গোষ্ঠীর চাপের অভিযোগ ভ্যান্সের

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দিতে ইসরায়েল-সম্পৃক্ত কিছু গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ওই উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনিও ব্যক্তিগতভাবে সংগঠিত রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়েছেন। তার এ মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন জনপ্রিয় পডকাস্টার জো রোগানের সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি কাজ করছিলেন। তবে সেই প্রচেষ্টাকে ভেস্তে দিতে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণার মাধ্যমে মার্কিন জনমতকে চুক্তির বিরুদ্ধে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তার ভাষায়, ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী এবং সে কারণেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন।

ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত করার পক্ষে থাকা একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে সক্রিয় ছিল। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত নীতিকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করাই ছিল তার দায়িত্ব, কিন্তু সেই কারণেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা ও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।

সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত প্রভাবিত করতে ইসরায়েলপন্থী একটি প্রচারণা পরিচালনার জন্য সাবেক এক রাজনৈতিক কৌশলবিদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যদিও ওই প্রতিবেদনের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও ভ্যান্সের বক্তব্যে বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশই নিজেদের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতা। তবে তার উদ্বেগ তখনই তৈরি হয়, যখন এমন প্রচারণা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ বা গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সরাসরি প্রভাবিত করার পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

ভ্যান্সের মতে, ইরানের সঙ্গে সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ ছিল। তিনি গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি উদ্যোগেরও সমর্থন জানান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে সেই উদ্যোগ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিভিন্ন দিক নিয়েও কথা বলেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হলেও সব নীতিগত বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান এক হবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। কূটনৈতিক সমাধান ও যুদ্ধের প্রশ্নে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েলের প্রভাব না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ইরান-সংকটে সামরিকভাবে জড়াত কি না—এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, সেই সম্ভাবনা অনেক কম ছিল। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরোধিতায় তিনি ও মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে মধ্যপ্রাচ্য নীতি, ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন এবং সামরিক হস্তক্ষেপের প্রশ্নে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই আলোচনায়। জনপ্রিয় পডকাস্টে তার উপস্থিতিকে অনেকেই তরুণ ভোটার এবং রিপাবলিকান সমর্থকদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, ভ্যান্সের অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল সরকার তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে তার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসার পরই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই ভ্যান্সের এই মন্তব্য নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কূটনৈতিক সমাধান নাকি সামরিক চাপ—কোন পথ অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত