প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুতুবদিয়া — তিন দিন আগে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক তরুণ জেলের লাশ মঙ্গলবার সকালে কুতুবদিয়ার কূলে ভেসে পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের নজরে পড়া এই ভেসে থাকা লাশটি পুলিশ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় এলাকার মানুষ শোকাহত এবং মাছ ধরার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈয়ারবিল মধ্য মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা ক্ববির আহমেদের ছেলে আনিছুর রহমান (২০) গত রোববার সকালে ফিশিং বোটে মাছ ধরতে বের হন। তবে এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। তার খোঁজে ওই এলাকার জেলেরা এবং বোট মালিক বিভিন্ন এলাকায় খুঁজাখুঁজি চালিয়েও কোনো সাফল্য পাননি। নিখোঁজের ঘটনার পরই পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন আতঙ্কে ছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে আলী আকবর ডেইল বায়ু বিদ্যুতের কুতুবদিয়া কূলে স্থানীয়রা ভেসে থাকা লাশটি দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে এবং নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
থানার ওসি মো. আরমান হোসেন জানান, “সৈকতে ভেসে থাকা লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি নিখোঁজ আনিছুর রহমানের লাশ। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে জেলেদের সচেতনতা এবং নিরাপদ সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়ে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, তবে সাগরে মাছ ধরার সময় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার ঘটনা কম নয়।”
স্থানীয় জেলেরা জানান, স্থানীয় সাগর এলাকায় হঠাৎ তীব্র ঢেউ ও স্রোতজনিত কারণে ছোট নৌকাগুলো বিপদে পড়তে পারে। নিখোঁজ হওয়ার সময় আনিছুর রহমানও সম্ভবত এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা তিন দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে শোকাহত।
এই ঘটনার ফলে কুতুবদিয়া এলাকার জেলেরা সতর্ক হয়েছেন। তারা বলেন, “সাগরে মাছ ধরার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। ছোট নৌকা ও পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম না থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে সাগরে মাছ ধরার সময় যেকোনো দুর্ঘটনার প্রাথমিক প্রতিকার ও তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া পরিবার ও স্থানীয়দেরও জেলেদের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেশীরা বলছেন, “যারা প্রতিদিন মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ছোট নৌকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বিষয়ে সতর্কতা অপরিহার্য।”
নিখোঁজের এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে শোক ও নিরাপত্তার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। পরিবার ও প্রশাসন আশা করছে, আগামীর জন্য সাগরে মাছ ধরা ও নৌকাযোগে যাতায়াতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে, যাতে আর এই ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।