তালগাছের মাচা থেকে গাঁজা ব্যবসার আস্তানা উদ্ধার করা হয়েছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পূর্ব শাখার পাড় এলাকায় ঘটেছে এক অভিনব ঘটনা। তালগাছের মাথায় মাচা বানিয়ে গোপনে গাঁজা বিক্রির আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন এক যুবক। তার এ অদ্ভুত কৌশলে প্রথমে কেউ বুঝতে পারেনি, সেখানে চলছে নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসা। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেছে সেই যুবক। শনিবার (১০ নভেম্বর) রাতে রাজৈর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে আটক করে।

আটক ব্যক্তির নাম মো. শাকিব শেখ (২৭)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল শেখের ছেলে। পুলিশ জানায়, তালগাছের মাথায় তৈরি মাচাটি ছিল মূলত গোপন মাদক বিক্রির জায়গা। সেখান থেকেই শাকিব নিয়মিত গাঁজা বিক্রি করতেন। তার কাছে থাকা প্যান্টের পকেট থেকে পুরনো কাগজে মোড়ানো প্রায় ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা বিষয়টি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি। তারা ধারণা করেছিলেন, কেউ হয়তো পাখি ধরার জন্য তালগাছে মাচা বানিয়েছে। পরে সন্দেহ হলে কয়েকজন যুবক দূর থেকে লক্ষ্য করতে শুরু করেন। দেখা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর তালগাছের চূড়ায় উঠে শাকিবের কাছে অপরিচিত কয়েকজন মানুষ আসছে। এরপর খবর যায় থানায়।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান জানান, পুলিশের কাছে খবর আসে যে এলাকায় একটি তালগাছের ওপর মাচা বানিয়ে মাদক বিক্রির আস্তানা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি শুনে প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল, কিন্তু স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় শাকিবের কাছে গাঁজা পাওয়া যায় এবং সে স্বীকার করে যে দীর্ঘদিন ধরে তালগাছের মাচা থেকে গোপনে গাঁজা বিক্রি করে আসছিল।

ওসি মাসুদ খান আরও বলেন, “অভিনব কায়দায় অপরাধ করলেও শেষ পর্যন্ত আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়া যায় না। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “তালগাছে এমন মাচা আগে কখনও দেখিনি। ভেবেছিলাম পাখি ধরছে কেউ, কিন্তু পরে দেখি গাঁজা বিক্রি হচ্ছে!” তারা আরও বলেন, শাকিব শান্ত-শিষ্ট ছেলের মতো আচরণ করলেও আসলে সে গোপনে মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল।

স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা গ্রামীণ সমাজে মাদক বিস্তারের একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ সহজ অর্থের লোভে পড়ে যেভাবে মাদকের সঙ্গে জড়াচ্ছে, তা সমাজের জন্য বিপজ্জনক সংকেত। তারা পুলিশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে এমন কৌশলে অপরাধে জড়াবে।”

এদিকে, রাজৈর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধ দমনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও মসজিদের ইমামদের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “গ্রামীণ এলাকাগুলোতে মাদক চক্রের নতুন কৌশল রোধে জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। প্রশাসন একা এ ধরনের অপরাধ দমন করতে পারবে না।”

শাকিবের পরিবার পুলিশের কাছে দাবি করেছে, সে মাদক ব্যবসায়ী নয়, বরং কিছু ভুল বন্ধুর প্রভাবে এই কাজে জড়িয়ে পড়েছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা প্রমাণে দেখা গেছে শাকিব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে।

মাদারীপুর জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নতুন কৌশলে অপরাধীরা মাদক বিক্রির চেষ্টা করলেও তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।”

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

এই ঘটনাটি গ্রামীণ সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরদার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের ব্যবসা যেভাবেই হোক—চাই তা শহরে হোক বা গ্রামে, মাটিতে হোক বা গাছে—আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, তালগাছের মাথায় মাচা বানিয়ে গাঁজা বিক্রির এই কৌশল শুধু অদ্ভুত নয়, বরং সমাজের জন্য এক ভয়াবহ সতর্ক সংকেত। তারা আশা করছেন, এই ঘটনার পর প্রশাসন আরও তৎপর হবে এবং রাজৈরসহ আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত