আ.লীগ নেতার হত্যা মামলায় ছেলেকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৮ বার
আ.লীগ নেতার হত্যা মামলায় ছেলেকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলো

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় নিজ বাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক হত্যা মামলায় তার ছেলে আসাদ আহমদকে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। মঙ্গলবার সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক শরিফুল হক রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এবিএম শাহ আলম জানান, প্রথম দফায় তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ একেক সময় একেক তথ্য দিয়েছেন। হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় ফের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ কারণে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল, তবে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল থেকে তাকে আবারো হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে পুলিশ।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ সুরমার নিজ বাড়ি থেকে রাজ্জাকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বুক, পেট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে ২২ ইঞ্চি লম্বা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত কেউ বাসায় প্রবেশ বা বের হননি। সকাল ৮টার দিকে গৃহকর্মী বাসায় ঢুকে সিঁড়ির ঘরে রাজ্জাকের লাশ দেখতে পান। তখন ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং সেই চাবি নিহতের কাছেই পাওয়া যায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজ্জাকের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। দুই মাস আগে তিনি সম্পত্তি ভাগ করে দেন এবং তারপর থেকে অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি ভারতেও গিয়েছিলেন। যদিও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে, তিনি নিজ বাড়িতেই বসবাস করতেন।

পরিবার মামলা না করায় দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই আনোয়ারুল কামাল বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে পরিবারের কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে রাখা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, তদন্তে পারিবারিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, আবদুর রাজ্জাক একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন এবং তার হত্যাকাণ্ড এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। মামলার তদন্ত চলাকালীন সময়ে পরিবারের পরিস্থিতি যথেষ্ট সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে কারণ বা পরিকল্পনা রয়েছে, তার সম্পূর্ণ চিত্র বের না হলে দোষীদের শনাক্ত করা কঠিন হবে।

অপরদিকে পুলিশ বলেছে, আসাদ আহমদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সত্যিকারের পেছনের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য হোতাদের শনাক্ত করা এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এ হত্যাকাণ্ডে পারিবারিক ঝগড়া, সম্পত্তি বন্টন এবং অন্য সম্ভাব্য রাজনৈতিক বা সামাজিক উত্তেজনা জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছেন।

রাজ্জাকের হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তার পরিবারের নিরাপত্তা এবং আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেকোনও সন্দেহভাজনকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এবিএম শাহ আলম আরও বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ আহমদের দেয়া তথ্যের সঙ্গে প্রমাণ মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।”

এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধের নয়, বরং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্বও এতে ভূমিকা রাখে।

পরবর্তী সময়ে আসাদ আহমদকে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যা থেকে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আশা করা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে, কোনো প্রভাব বা রাজনৈতিক প্ররোচনা থাকলেও সকল তথ্য খতিয়ে দেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত