তিতাস গ্যাস ফিল্ডে ওয়েলহেড কমপ্রেসার স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২২ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ল গ্যাস সরবরাহ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৫ বার
তিতাস গ্যাস ফিল্ডে ওয়েলহেড কমপ্রেসার স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২২ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ল গ্যাস সরবরাহ

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র তিতাস থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পেল। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) পরিচালিত তিতাস গ্যাস ফিল্ডের লোকেশন-ই ও লোকেশন-জি তে ওয়েলহেড কমপ্রেসার স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন অতিরিক্ত ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

বিজিএফসিএলের মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিতাসের লোকেশন-ই (কূপ নং ১১ ও ১২) এবং লোকেশন-জি (কূপ নং ১৭, ১৮ ও ২৭) থেকে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উৎপাদনের ফলে ওয়েলহেড প্রেসার ক্রমান্বয়ে কমে গিয়েছিল। জাতীয় গ্রিড লাইনের তুলনায় কম প্রেসারের কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এই সমস্যার সমাধান করতে ওয়েলহেড প্রেসার বৃদ্ধি করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বিজিএফসিএল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কমপ্রেসার স্থাপন কাজ শুরু হয়। ওয়েলহেড কমপ্রেসারের স্থাপন, টেস্টিং কমিশনিং এবং পারফরম্যান্স টেস্ট রান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এই কমপ্রেসারের মাধ্যমে তিতাস গ্যাস ফিল্ডের লোকেশন-ই থেকে দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং লোকেশন-জি থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা আগের তুলনায় দৈনিক ২২ মিলিয়ন ঘনফুট বেশি। এছাড়াও গ্যাসের উপজাত হিসেবে লোকেশন-ই ও লোকেশন-জি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৬ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন হচ্ছে।

বিজিএফসিএল জানিয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা পূরণের জন্য তিতাস, হবিগঞ্জ ও মেঘনা গ্যাস ফিল্ডে ৭টি কূপ ওয়ার্কওভার (১ম সংশোধিত), তিতাস ও কামতা গ্যাস ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন, তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে ২টি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন এবং হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাস ফিল্ডে ৩-ডি সাইসমিক জরিপ শীর্ষক ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়েলহেড কমপ্রেসার স্থাপনের মাধ্যমে তিতাসের উৎপাদন ক্ষমতা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কমPRESSারের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছিল। ওয়েলহেড কমপ্রেসার স্থাপনের পর এখন কূপসমূহের প্রেসার যথাযথভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দৈনিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছে।

তিতাস গ্যাস ফিল্ড দেশের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস উৎস হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিদ্যুৎ, শিল্প ও জনজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বিশেষ করে শীতকালে গ্যাস চাহিদা বাড়ার কারণে স্থানীয় এবং জাতীয় গ্রিডের চাপ বৃদ্ধি পায়। ওয়েলহেড কমপ্রেসারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হলে এই চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

বিজিএফসিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, “কমপ্রেসার স্থাপনের মাধ্যমে কূপসমূহের ওয়েলহেড প্রেসার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে গ্যাস সরবরাহে কোনো ধরনের ব্যাঘাত হবে না এবং গ্রিডে ধারাবাহিকভাবে গ্যাস পৌঁছাবে। এছাড়াও উৎপাদিত কনডেনসেট দেশের শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য সহজলভ্য হবে।”

এছাড়া চলমান খনন ও জরিপ প্রকল্পগুলো দেশের গ্যাস উৎপাদনকে আরও স্থিতিশীল ও বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য করার জন্য পরিকল্পিত। ভবিষ্যতে গ্যাসের চাহিদা আরও বেড়ে গেলে এই প্রকল্পগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাধারণ জনগণ ও শিল্পখাতের জন্য এই উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, গৃহস্থালি ব্যবহার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহ ধারাবাহিকভাবে গ্যাস সরবরাহ পাবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে গ্যাসের অভাব কমায় লোডশেডিং রোধে সহায়তা করবে।

বিজিএফসিএলের এই উদ্যোগ দেশের শক্তিশালী প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ব্যবস্থা এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়েলহেড কমপ্রেসারের স্থাপনের ফলে তিতাস গ্যাস ফিল্ড দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও কার্যকর ও স্থিতিশীল অবদান রাখবে।

তিতাস, হবিগঞ্জ, মেঘনা, কামতা ও বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে চলমান প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন সামর্থ্য আরও বৃদ্ধি পাবে। দেশীয় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গ্যাস চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যও বজায় থাকবে।

বিজিএফসিএলের মতে, ওয়েলহেড কমপ্রেসার স্থাপনের মাধ্যমে কূপসমূহের প্রেশার বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ফলস্বরূপ দেশীয় গ্যাস চাহিদার সাথে সরবরাহ সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা সম্ভব হবে। এটি দেশের শক্তি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সংক্ষেপে, ওয়েলহেড কমপ্রেসার স্থাপন প্রকল্প তিতাস গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ক্ষমতা পুনরায় জোরদার করেছে। জাতীয় গ্রিডে দৈনিক অতিরিক্ত ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্প-অর্থনীতির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত