১২ নভেম্বর: দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩০ বার
স্বর্ণের দাম বাড়ল, ভরি প্রতি ৩৪৫৩ টাকা বৃদ্ধি

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণ বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ১২ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৮ হাজার ৪৭১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আগের দিনের তুলনায় ভরিতে ৪ হাজার ১৮৮ টাকা বেশি। এই দাম বুধবার থেকে কার্যকর হবে এবং দেশব্যাপী স্বর্ণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য নতুন নির্দেশনা হিসেবে প্রযোজ্য হবে।

বাজুসের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির ফলে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কারিগরি ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮৫৮ টাকা।

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

স্বর্ণের দাম নির্ধারণের পাশাপাশি বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে জুয়েলারি ডিজাইন ও মানের পার্থক্যের কারণে মজুরি সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে ক্রেতাদের জন্য সামান্য মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য করা যেতে পারে, যা বিশেষত সনাতন ও কারিগরি কাজের জুয়েলারিতে প্রভাব ফেলবে।

গত ১০ নভেম্বরও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সেই সময়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৫০৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪২ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল। ১১ নভেম্বর থেকে সেই দাম কার্যকর হয়েছিল। তবে মাত্র একদিনের ব্যবধানের মধ্যে আবারও দাম বৃদ্ধির ফলে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামা দেশের স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মনোবিজ্ঞান। যে সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা থাকে, তখন সাধারণ মানুষ বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণকে প্রাধান্য দেন। তাই দেশের বাজারে ক্রমাগত দাম বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরের জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, “ক্রেতাদের মধ্যে দাম বৃদ্ধি নিয়ে আগ্রহ ও সতর্কতা উভয়ই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু ক্রেতা এখন স্বর্ণ কিনতে দেরি করছেন, অন্যদিকে কিছু বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টি নিয়ে আরও বেশি ক্রয় করছেন।” তাদের মতে, ভরিতে দাম বৃদ্ধি স্বর্ণের বাজারকে সাময়িকভাবে প্রতিকূল করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য লাভজনক হতে পারে।

দেশের গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলেও স্বর্ণ ক্রেতারা নতুন দাম সম্পর্কে সচেতন হচ্ছেন। বিশেষ করে উৎসব বা সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে। যেসব পরিবার বিয়েবাড়ি, পূজা বা অন্যান্য আচার অনুষ্ঠানে স্বর্ণ ক্রয় করে, তাদের বাজেট পুনর্মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। স্থানীয় জুয়েলাররা জানিয়েছেন, ক্রেতাদের জন্য সহজ কিস্তি ও লোন সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার মধ্যে রয়েছে।

তবে স্বর্ণের দাম বেড়েছে বলে দেশের বাজারে রুপার মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুপার মূল্য স্থিতিশীল থাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করান, স্বর্ণ এবং রুপার মধ্যে মূল্য পার্থক্য ক্রেতাদের কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে অনেক ক্রেতা স্বর্ণের বিকল্প হিসেবে রুপা বা অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগে ঝুঁকছেন। এটি একটি স্বাভাবিক বাজার প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে মূল্য সংরক্ষণ ও বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে, দেশের বাজারে স্বর্ণের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধি ক্রেতা, বিক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। জুয়েলাররা ক্রেতাদের সচেতন করার জন্য তাদের নিজস্ব উদ্যোগেও কাজ করছেন, যাতে দাম বৃদ্ধির প্রভাব সামাল দেওয়া যায়।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বাজুসের সাম্প্রতিক ঘোষণার ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণের ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় হয়েছে। ক্রেতারা সচেতনভাবে দাম পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের দিক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। পাশাপাশি, বিক্রেতারা ক্রেতাদের সুবিধার জন্য মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি ন্যায্যভাবে ব্যাখ্যা করছেন।

উল্লেখ্য, দেশের স্বর্ণ বাজার দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের ধারা দেশের স্বর্ণের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই বাজুসের নিয়মিত দাম সমন্বয় ও বিজ্ঞপ্তি দেশের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাজারের সব পর্যায়ের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ। যেখানে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রেতা ও বিক্রেতারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেখানে স্বর্ণ এবং রুপার স্থিতিশীল মূল্য বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত