সিলেটসহ দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার
সিলেটসহ দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশজুড়ে চলমান সহিংসতা ও নাশকতার আশঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) মঙ্গলবার তাদের সদর দফতর থেকে দেশের সমস্ত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে নির্দেশনা প্রেরণ করে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং দ্রুত মোকাবিলার জন্য প্রতিটি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র জানায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বেবিচক সব বিমানবন্দরে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। শুধু এটুকুই নয়, বিমানবন্দর এলাকায় ফুট প্যাট্রোল এবং ভেহিকল প্যাট্রোল বাড়ানোর মাধ্যমে আশেপাশের এলাকা এবং কর্মরত ব্যক্তি ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বেবিচক সব ধরনের ঝুঁকি বা হুমকি মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

এছাড়া বেবিচক নির্দেশ দিয়েছে, সর্বোচ্চ সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করতে হবে। ফায়ার সার্ভেইল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। বিশেষ করে যেসব বিমানবন্দরে কার্গো হাউস বা গুরুত্বপূর্ণ মালামাল সংরক্ষণ করা হয়, সেখানে আরও বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হাউসে আগুন লাগার ঘটনা। তখন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কিছুটা সময়সাপেক্ষ ছিল। এরপর থেকেই সকল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, “বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সব বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো হাউসে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই আমরা অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখন সিসিটিভি মনিটরিং, টহল কার্যক্রম এবং ফায়ার সার্ভেইল্যান্স আরও জোরদার করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করা।”

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিমানবন্দরগুলো কোনোভাবেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। যেকোনো সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা বা নাশকতার কারণে বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করা হতে পারে। তাই এখনই সজাগ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাত্রীরা যেসব এলাকায় অপেক্ষা করেন, যেমন টার্মিনাল, গেট এলাকা ও পার্কিং জোন, সেগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যাবশ্যক।

বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তারা ইতিমধ্যেই প্রতিটি কর্মীকে নিরাপত্তা নির্দেশনা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব গেট এবং প্রবেশপথে যথেষ্ট নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আগুন লাগার বা অন্য কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত মোকাবিলা করার জন্য জরুরি সরঞ্জাম ও ফায়ার এক্সটিংগুইশার সব জায়গায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের ফলে যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত টহল এবং নজরদারি থাকায় তারা সুরক্ষিত বোধ করছেন। পাশাপাশি, যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অবহেলা বা অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হয়েছে। বেবিচক এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা একসঙ্গে বজায় রাখা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, যাত্রীদের উচিত নিজেও সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে অবিলম্বে নিরাপত্তা কর্মীদের জানান দেওয়া। এমন পদক্ষেপ বিমানবন্দরকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।

দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং নাশকতার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের প্রধান ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বেবিচক আশা করছে, এই পদক্ষেপ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যে মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরে আগুন, অগ্নিকাণ্ড বা যাত্রীর অসাধারণ আচরণজনিত ঘটনায় সতর্কতা জারি করার গুরুত্ব বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে সিসিটিভি মনিটরিং, টহল, ফায়ার সার্ভেইল্যান্স এবং নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। বেবিচক নিশ্চিত করেছে, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে এসব ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, এ ধরনের সতর্কতা কেবল যাত্রীদের জন্য নয়, পুরো দেশের বাণিজ্যিক ও পর্যটন কার্যক্রমের নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরগুলো হলো দেশের আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও জনগণের উপর সরাসরি পড়ে।

এদিকে, বেবিচক নির্দেশনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মনিটরিং ও পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সংকেত বা হুমকি এলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।

সার্বিকভাবে বলা যায়, দেশের বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যাত্রীর নিরাপত্তা, কর্মীদের সুরক্ষা এবং সামগ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে। বেবিচকের পদক্ষেপ দেশের বিমান পরিবহণ ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত