হাসিনার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা চাইছে প্রসিকিউশন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
‘নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি’ বলা হাসিনার ব্যাংকের ভল্টে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা থেকে — ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি‑১)‑তে প্রসিকিউশন সর্বোচ্চ সাজা, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে। প্রসিকিউশন আশা করছে আগামী ১৩ নভেম্বর রায় সংক্রান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে।

বুধবার ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, তিনি বিশ্বাস করেন রায় আগামীকাল ধরা পড়বে। তিনি বলেন, “বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে নানা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। তবে বিচার তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”

মামলার প্রেক্ষাপটে প্রসিকিউশন উল্লেখ করেছে, ২০২৫ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, হত্যাকাণ্ডের মাত্রা এবং প্রভাব বিবেচনায় সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করা উচিত।

আইসিটি‑১ গত বছর জুলাই মাসে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে। ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ অনুসারে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। মামলায় শতাধিক সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য, ফৌজদারি তদন্ত প্রতিবেদন এবং দলিলাদি রয়েছে।

মামলার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রসিকিউশন উল্লেখ করেছে। তবে তারা জানিয়েছেন, এসব চেষ্টা বিচারকে থামাতে পারবে না। প্রসিকিউটর বলেন, “বিচার তার নিজ গতিতে চলবে এবং আইনের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া মেনে রায় প্রদান করা হবে।”

ট্রাইব্যুনালের আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল। একই নির্দেশে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১২ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ও অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী হত্যার মামলায়ও একই দিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপুর্ণ ঘটনা। এটি প্রথমবারই একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন করা হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রভাবিত না করে।

মামলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও বিশাল। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো মামলা নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছেন, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। অন্যদিকে, মামলার ফলাফল আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটি দেখাচ্ছে যে, উচ্চপদস্থ নেতারাও আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেন।

আইসিটি‑১ এই মামলায় কয়েক হাজার পৃষ্ঠার চার্জশিট এবং প্রমাণপত্র বিশ্লেষণ করেছে। এই মামলার রায় আগামীকাল ঘোষিত হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনি জগতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রায়ের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধু এক রাজনৈতিক নেতার জন্য নয়, বরং দেশের বিচারিক স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত