সংবিধান পঞ্চাদশ সংশোধনী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের লিভ টু আপিল অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৫ বার
সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছে

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সংবিধানের পঞ্চাদশ সংশোধনীর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ লিভ টু আপিলের অনুমতি দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে এই বেঞ্চ বৃহস্পতিবার সকালে আদেশ দেন। এ সংক্রান্ত শুনানি চলছিল, যেখানে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পুনঃমূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্টরা আপিল করেন।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চাদশ সংশোধনী আইন পাস হয়। এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা। রাষ্ট্রপতি ৩ জুলাই ২০১১ সালে সংশোধনী অনুমোদন দেন। সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সংশোধনীতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পুনর্বহাল ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়েছে। এসব মূলনীতির সংযোজন দেশের সাংবিধানিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়।

পঞ্চাদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে বিবেচনা করে দণ্ডিত করার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করলে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার প্রावিধান করা হয়েছে। পূর্বে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও সংশোধনীতে তা পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার শর্ত সংযোজন করা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায় সংশোধনীর অনেকগুলো ধারা চ্যালেঞ্জ করে, বিশেষত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত ধারাগুলো নিয়ে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের লিভ টু আপিলের অনুমোদন দেশের সংবিধান ও নির্বাচনী কাঠামোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আপিল বিভাগে এই মামলা চলাকালীন বিভিন্ন আইনজীবী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করেছেন, যে পঞ্চাদশ সংশোধনী দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। সংশোধনী রাজনীতিকভাবে বিতর্কিত হলেও দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়।

লিভ টু আপিলের অনুমোদনের মাধ্যমে হাইকোর্টের রায়ের পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশোধনী সংক্রান্ত বিতর্কিত ধারা এবং তাদের প্রভাব বিস্তারিতভাবে বিচারিক পর্যায়ে আলোচিত হবে। এটি দেশের সংবিধান সংক্রান্ত আইন, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে এই মামলা দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পর্যবেক্ষণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আপিল প্রক্রিয়া শেষ হলে হাইকোর্টের রায় স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্তে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব অনুধাবনযোগ্য এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

পঞ্চাদশ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের সংবিধানিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী বা পরিবর্তনের পথে নিয়ে যেতে পারে। বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপ দেশের জন্য ন্যায়, আইনের শাসন ও সংবিধান রক্ষার ক্ষেত্রে এক নজরকাড়া উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত